Advertisement

২০২৭ সালের হজে তিন সার্ভিস প্যাকেজ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
২০২৭ সালের হজে তিন সার্ভিস প্যাকেজ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি মাধ্যমে হজ প্যাকেজ-১ ও হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) নামে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের হজে সার্ভিস প্যাকেজ হবে তিনটি। যা ২০২৬ সালে মিনা ও আরাফায় ছিল চারটি সার্ভিস প্যাকেজে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৬ সালের চেয়ে বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমেছে। হজ প্যাকেজ-১ এর খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ এর খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ প্রেস ব্রিফিংয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ঘোষণা করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের হজে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু ও সার্ভিস প্যাকেজকে একটি সমন্বিত প্যাকেজের মধ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় এ, বি, সি ও ডি—মোট চারটি সার্ভিস প্যাকেজ ছিল। কিন্তু ২০২৭ সালের হজে সার্ভিস প্যাকেজ হবে তিনটি।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের হজে হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে হজযাত্রীদের সেবার মান বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার আমলে ২০২৩ সালে বিমান ভাড়া ছিল প্রায় দুই লাখ টাকা। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বিমান ভাড়া এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা করা হয়। ২০২৭ সালের হজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমান ভাড়া এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা হজের বিমান ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক।

বিগত সরকারের আমলের বিমান ভাড়া তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পতিত শেখ হাসিনা হজ ফ্লাইটের বিমানভাড়া কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। আর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে আল্লাহর মেহমানদের বিমান ভাড়া কীভাবে কমানো যায়, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটাই তারেক রহমানের বৈশিষ্ট্য; এটাই দেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।

হজের খরচ গত হজের চেয়ে কমল না বাড়ল, এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজে খাবার খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু ২০২৭ সালের হজে ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা, সার্ভিস প্যাকেজ ‘ডি’ বাতিল করা ও সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় হজ প্যাকেজে বাড়তি খরচ যুক্ত হয়েছে ৬৬ হাজার ৫৭৪ টাকা। ২০২৬ সালের সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের সঙ্গে এই টাকা যোগ করে তুলনা করলে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ-২ এ ২৮ হাজার ৬৩ টাকা কমেছে।

প্রবাসী হজযাত্রীদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের হজে প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সে দেশেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ করে ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এর আগের বছরগুলোয় তাদের দেশে এসে এ কাজগুলো করতে হতো। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীরা যাতে অবস্থানরত দেশ থেকে সরাসরি সৌদিতে যেতে পারেন, সে বিষয়েও চেষ্টা করে যাচ্ছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, হজ প্যাকেজ-১-এর হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের বহিঃচত্বর থেকে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এরিয়ায় আবাসন-সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায়‌ ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন।

উল্লেখ্য, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ প্যাকেজ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায়‌ ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে।

বেসরকারি তথা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।

এ সময় গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।