logo

এমপিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনে যা বলা আছে

এমপিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনে যা বলা আছে
জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি : উইকিপিডিয়া

সংসদ সদস্য হলেই ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার থেকে কেউ দায়মুক্তি পান না। তবে একজন এমপিকে গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষেত্রে সংবিধান, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি এবং দেওয়ানি কার্যবিধিতে কিছু বিশেষ সুরক্ষার বিধান রয়েছে।

বিশেষ করে সংসদের বাইরে ফৌজদারি মামলায় কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সাধারণভাবে স্পিকারের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে গ্রেপ্তার, আটক বা কারাদণ্ডের বিষয়টি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় স্পিকারকে জানাতে হয়।

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭২ বিধিতে এ বিষয়ে বিধান রয়েছে। এ বিধি অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য ফৌজদারি অভিযোগে বা ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তার হলে, কারাদণ্ড দেওয়া হলে কিংবা নির্বাহী আদেশে আটক হলে সংশ্লিষ্ট বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ফরমে এর কারণ উল্লেখ করে বিষয়টি অবিলম্বে স্পিকারকে জানাতে হবে।

অর্থাৎ, সংসদের বাইরে কোনো ফৌজদারি মামলায় এমপিকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আগে স্পিকারের অনুমতি নেওয়ার বিধান নেই। বরং গ্রেপ্তার বা আটকের পর বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করার বিধান রয়েছে।

তবে সংসদের সীমানার ভেতরে কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে নিয়মটি আলাদা। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭৪ বিধিতে বলা হয়েছে, ‘নো অ্যারেস্ট শ্যাল বি মেড উইদিন দ্য প্রিসিঙ্কটস অব দ্য হাউস উইদাউট অবটেইনিং দ্য পারমিশন অব দ্য স্পিকার।’

অর্থাৎ, সংসদ ভবন ও এর নির্ধারিত সীমানার মধ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে আগে স্পিকারের অনুমতি নিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিধানে শুধু সংসদ সদস্যের কথা বলা হয়নি; সংসদের সীমানার মধ্যে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেই স্পিকারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে।

এ কারণে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭২ ও ১৭৪ বিধির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ১৭২ বিধিতে সংসদ সদস্যের গ্রেপ্তার, আটক বা কারাদণ্ডের পর স্পিকারকে অবহিত করার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১৭৪ বিধিতে সংসদের সীমানার মধ্যে কাউকে গ্রেপ্তারের আগে স্পিকারের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

দেওয়ানি মামলায় আবার সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা সুরক্ষা রয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৫এ ধারায় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এবং অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো সংসদ সদস্যকে দেওয়ানি মামলায় গ্রেপ্তার বা কারাগারে আটক করা যাবে না।

তবে এই সুরক্ষা কেবল দেওয়ানি মামলায় গ্রেপ্তার বা আটকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৫এ ধারার এই সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়।

সংসদ সদস্যদের বিশেষাধিকারের বিষয়টি সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদেও উল্লেখ রয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্য, ভোট এবং সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে সদস্যদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সংসদে বক্তব্য বা ভোট দেওয়ার কারণে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে কার্যক্রম নেওয়া যাবে না।

তবে সাধারণ ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তার থেকে সর্বাত্মক দায়মুক্তি দেয়নি সংবিধান।

এ ছাড়া কোনো সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হলে অন্য নাগরিকের মতোই তার ক্ষেত্রেও সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের গ্রেপ্তার ও আটক-সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য হবে। গ্রেপ্তারের কারণ জানানো এবং আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার মতো সাংবিধানিক সুরক্ষাও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।