মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করবে জাতিসংঘ

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের শিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্তে আগামী মাসে বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শাহীন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সমকাল।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে ফরিদা শাহীন মবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এ ধরনের ঘটনায় মারা যাওয়া শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ সময় জাতিসংঘের শিক্ষা সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর ঢাকা অফিস তাকে সহায়তা করবে।
মবের শিকার শিক্ষকদের সংগঠন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংগঠনটির হিসাবে, বেপরোয়া মবকারীদের হাতে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত আটজন শারীরিক ও মানসিক আঘাতের পর মারা গেছেন। পাঁচ শতাধিক আহত বা অসুস্থ হয়েছেন। ৯৪০ জন শিক্ষক এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। মবের শিকারদের বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক নেতারা বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কয়েকটি নির্দেশনা জারি করলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে দুই বছর ধরে অনেক শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। কারও শিক্ষক ইনডেক্স (এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শনাক্তকরণ নম্বর) বাতিল করা হয়েছে।
জোটের সভাপতি ও ঢাকা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. বেদার উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার জানান, জোরপূর্বক পদত্যাগ, শারীরিক নির্যাতন ও কর্মস্থলে বাধার কারণে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বারবার আদালত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে শিক্ষকরা তথ্য-প্রমাণসহ জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকার কমিশনে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
শিক্ষক নেতারা আশা করছেন, জাতিসংঘের এই তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অন্যায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে।
