দক্ষিণ কোরিয়ার জাদুঘরে বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা

দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরের এশিয়ান কালচারাল সেন্টারের (এসিসি) আন্তর্জাতিক জাদুঘর কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৮-৩০ সালের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কিম সাং-উক।
৮-১১ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কালচার উইক ফেস্টিভ্যাল’। এ উৎসব চলাকালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম সাং-উক বাংলাদেশের সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসিসির সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘দক্ষিণ এশিয়া মিউজিয়াম’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, লোকশিল্প ও সমসাময়িক জীবনযাত্রার বিভিন্ন উপাদান প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসিসির এশিয়ান লাইব্রেরিতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক বই রয়েছে। তবে উচ্চতর গবেষণা ও তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে আরও বই ও গবেষণাসামগ্রী সংগ্রহে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।
এ উদ্যোগের বিষয়ে হানসুং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট বিভাগের অধ্যাপক ইয়োন গিল ইউ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।’
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এসিসি দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
স্থপতি উ ক্যু-সংয়ের ‘ফরেস্ট অব লাইট’ বা ‘আলোর বন’ দর্শনের ভিত্তিতে নির্মিত এ কেন্দ্রে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি বিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
ভূগর্ভে চার তলাবিশিষ্ট এই কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এসিসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।