সরকারি এআই প্রশিক্ষণে ঢাকায় প্রতি সিটের জন্য লড়ছেন ৭০২ প্রার্থী

দেশের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থ্যাৎ ঢাকায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়। এর মধ্য থেকে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৪ জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘এখানে যারা এআই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তারা প্রশিক্ষণকালেই আয় করা শুরু করছেন। যার যত সক্ষমতা, সে অনুযায়ী আয় করছেন। কেউ কেউ মাসে ১২ হাজার ডলারও আয় করছেন। লেখাপড়া করে সরাসরি আয়ের এমন সুযোগ আর কোথায় আছে? ফ্রিল্যান্সিং অথবা এআই খাতেই এমন সুযোগ রয়েছে। তাই এখানে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, এআই খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আরও প্রকল্প বাড়াতে পারলে হয়তো তরুণ সমাজের চাহিদা পূরণ করতে পারব। এ বিষয়ে সরকারের যে নির্বাচনি অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ১ অক্টোবর থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জানা যায়, এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুলের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
