logo
Advertisement

নবম পে-স্কেলের গেজেট হতে পারে আজ, ৭ বড় পরিবর্তন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নবম পে-স্কেলের গেজেট হতে পারে আজ, ৭ বড় পরিবর্তন
ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) গেজেট আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সন্ধ্যার পর এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য উঠেছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আজ জারি করা হতে পারে। গেজেট জারির বিষয়ে কাজ চলছে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করে সরকার। ওই দিন সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

তবে প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। যদিও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

কার কত বেতন বাড়ছে

চাকরিজীবীরা নতুন যে বেতনকাঠামোয় অনেকের বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে ১০০ শতাংশ, অর্থাৎ তাদের বেতন এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন গ্রেড বা ২০তম গ্রেডে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর তাদের মূল বেতন দাঁড়িয়েছে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারিত হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই পে-স্কেল মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও বলা হয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ জুলাই মাস হিসাবে ধরেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এমন বেতন-ভাতা দিতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

নবম পে স্কেলে থাকছে ৭ বড় চমক

নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়ছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। তবে শুধু বেতন বাড়ানোই নয়, নতুন কাঠামোয় বদলে যাচ্ছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতার হিসাব। একই সঙ্গে কমছে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার অপেক্ষার সময়।

ফলে নতুন পে স্কেলে একদিকে যেমন বড় বেতন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের ইনক্রিমেন্টের হার কমার মতো পরিবর্তনও আসছে।

ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন

বর্তমান বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেড নির্বিশেষে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। তবে নতুন পে স্কেলে এ নিয়মে পরিবর্তন আসছে। ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকছে। এরপর হার কমবে। পঞ্চম গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট হবে ৪ শতাংশ। চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রেড যত ওপরে যাবে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার তত কমবে।

সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজরে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বাড়িভাড়ায় কমছে শতাংশ

বাড়িভাড়া ভাতায়ও পরিবর্তন আসছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। নতুন পে-স্কেলে তা কমে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ হবে।

ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ হবে। দেশের অন্যান্য এলাকায় বর্তমান ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে বাড়িভাড়া হবে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। তবে বাড়িভাড়ার হার কমলেও মূল বেতন বড় আকারে বাড়ায় অনেকের ক্ষেত্রে টাকার অঙ্কে ভাতা বাড়তে পারে।

চিকিৎসা ভাতায় বড় পরিবর্তন

নবম পে-স্কেলে চিকিৎসা ভাতাও বাড়ছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকরিজীবীরা মাসে তিন হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা পাবেন ৪ হাজার টাকা। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতা হবে ৫ হাজার টাকা। আর ৭০ বছরের বেশি বয়সী পেনশনাররা পাবেন ৬ হাজার টাকা।

বর্তমানে সাধারণ কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা দ্বিগুণ হচ্ছে।

মোবাইল ভাতায় পরিবর্তন

নতুন কাঠামোয় সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ফোনের ভাতার ব্যবস্থা থাকছে। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ফোন ভাতা দেওয়া হবে।

তবে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য বর্তমানে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত যে মোবাইল বিল রয়েছে, তা কমে ৫০০ টাকা হবে। এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার কথা রয়েছে।

উচ্চতর গ্রেড পেতে সময় কমছে

বর্তমানে উচ্চতর গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোয় সেই সময় কমিয়ে ৮ বছর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ পদোন্নতি না হলেও একজন কর্মচারী আগের তুলনায় দুই বছর আগে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতোই ছয় বছর একই গ্রেডে চাকরি করার শর্ত থাকবে।

যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই, অর্থাৎ ব্লকড পদে চাকরিজীবনে মোট তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের ব্যয় বাড়বে

নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

নতুন বেতনকাঠামো এক দিনে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর সব ধরনের ভাতা পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে। অর্থাৎ নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়, এর সঙ্গে সরকারের ভবিষ্যৎ ব্যয় এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও সরাসরি জড়িত।

বড় আকারে বাড়ছে মূল বেতন

নিচের গ্রেডে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকছে, কিন্তু উচ্চ গ্রেডে হার কমছে। বাড়িভাড়ার শতাংশ কমছে, তবে বেসিক বেতন বাড়ায় টাকার অঙ্কে ভাতা বাড়তে পারে। চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতায় বাড়ছে সুবিধা। উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার অপেক্ষার সময়ও কমছে। তবে একই সঙ্গে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ ১০ শতাংশ প্রণোদনা নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বাতিল হবে।