Advertisement

বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে যেসব বিষয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে যেসব বিষয়
ভারতের নয়াদিল্লিতে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই সীমান্ত বাহিনীর মহাপরিচালকরা। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের নয়াদিল্লিতে গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন।

Advertisement

এই বৈঠকে বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। আর ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক শ্রী প্রবীণ কুমার।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় পুশ-ইন ইস্যুতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে রয়েছে। গত মে মাসের শেষ দিক থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্টে অন্তত ২০০ জন মানুষকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে এবারের বৈঠকে 'পুশ-ইন' বা 'পুশ-ব্যাক' ইস্যু অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করা হচ্ছিল। আশা ছিল দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক থেকে এই বিষয়ে একটি কার্যকর সমাধানের পথ মিলবে। কিন্তু বৈঠক শেষে সীমান্তে জোর করে ঠেলে দেওয়া বা পুশ-ইন ইস্যু সমাধানে তেমন কোনো বার্তা আসেনি।

এমনকি বৈঠকের পর প্রথাগতভাবে যৌথ বিবৃতি না দিয়ে আলাদা আলাদা বিবৃতি দিয়েছে দুই পক্ষ। এই বিষয়টিও ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে না বলেও মত অনেক বিশেষজ্ঞের।

মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠকে পুশ-ইন ও পুশ ব্যাক ইস্যু ছাড়াও সীমান্ত হত্যা, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচারসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বাহিনীগুলো।

দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্ব পায় সীমান্ত হত্যার বিষয়টিও। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক।

অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে সীমান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি কথা বলা হয়।

আলোচনা হয় অবৈধ অভিবাসন এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিষয়েও।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক।

এর জবাবে সব ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতের 'জিরো টলারেন্স' নীতির বিষয়ে জানান বিএসএফ মহাপরিচালক। বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে বিএসএফের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেছেন বিজিবি মহাপরিচালক। কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের আটকের কথাও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা বেড়া, গবাদিপশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামো নির্মাণে বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত-সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানায় বিজিবি।

মাদকবিরোধী 'জিরো টলারেন্স' নীতি এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এ ছাড়া সমন্বিত পেট্রোল জোরদার করা এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা