logo

জনকণ্ঠে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় বিএফইউজে-ডিইউজের নিন্দা

জনকণ্ঠে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় বিএফইউজে-ডিইউজের নিন্দা
বিএফইউজে-ডিইউজে। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দৈনিক জনকণ্ঠে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঈদ বোনাস, বেতন-ভাতা ও বকেয়া পরিশোধ না করে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

সোমবার (২৫ মে) বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে বিএফইউজে-ডিইউজে বদ্ধপরিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বিএফইউজে ও ডিইউজে বলেছে, দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় কর্মরত অন্তত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়া একযোগে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে বিরল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তত অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মীকে ‘মবকারী’ আখ্যা দিয়ে হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যাদের অনেকেই ১৫ থেকে ৩৩ বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত শুধু শ্রম আইন ও ওয়েজবোর্ড পরিপন্থি নয়, এটি সংবাদকর্মীদের মানবিক মর্যাদার ওপরও আঘাত। অবিলম্বে সকল বকেয়া বেতন পরিশোধ, বাধ্যতামূলক চাকরিচ্যুতের নোটিশ বাতিল এবং সংবাদকর্মীদের কাজে যোগদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, অবৈধভাবে চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে রোববার (২৪ মে) সংবাদকর্মীরা জনকণ্ঠ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নিরাপত্তাকর্মীরা সংবাদকর্মীদের বাধা দেন। এ সময় একাধিক সংবাদকর্মী গুরুতর আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ডিইউজে ও বিএফইউজের নেতারা বলেন, সংবাদকর্মীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ‘হামলা’ বা ‘মব’ তত্ত্ব দাঁড় করানো অনভিপ্রেত। আমাদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।

সংবাদকর্মীদের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির সময় ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ ইউনিয়নের একাধিক সিনিয়র সদস্য জনকণ্ঠ ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এইচআর ও অ্যাডমিন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সোহেলের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বৈঠকে মোহাম্মদ সোহেল যেসব সাংবাদিক এখনও বকেয়া বেতন ও বোনাস পাননি, ঈদুল আজহার আগে তাদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সাংবাদিকরা কোনো বেতন বা বোনাস পাননি।

বিবৃতিতে বলা হয়, চাকরিচ্যুত সকল সংবাদকর্মীর বৈধ পাওনা ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করতে হবে। অন্যায় ও একতরফা চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার অথবা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। রিপোর্টারসহ সকল সংবাদকর্মীর বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

এমন আচরণ সাংবাদিক সমাজকে ক্ষুব্ধ করেছে উল্লেখ করে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় সংবাদকর্মীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ডিইউজে ও বিএফইউজে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

চাকরিচ্যুত সংবাদকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অষ্টম ওয়েজ বোর্ড অনুসারে তাদের প্রাপ্য সার্ভিস বেনিফিট, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা পরিশোধ না করেই কেবল কয়েক মাসের বেসিক বেতন দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।