logo

শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্ত্রী

শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্ত্রী

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মতো কতবার যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিচার পেছাবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন বলে মন্তব্য করেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

পোস্টে রাবেয়া ইসলাম সম্পা লেখেন, রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? শহীদ ওসমান হাদির বিচারের কত দেরি-? আমাদের বাংলাদেশে আমরা যারা বিচারের জন্য লড়াই করি তাদের লাইফটাইম প্রশ্ন এইটা!

ইতিহাস দেখলে আমরা না পেয়েছি সাগর-রুনি হত্যার বিচার, না পেয়েছি আবরার ফাহাদের বিচার আর এখন শুরু হচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির। কত বার যে তারা পেছাবে, সেটা আল্লাহই জানে। তবে আমাদের স্পষ্ট কথা, বিচার আমরা নিশ্চিত করেই ছাড়ব। কত মাস, দিন, ঘণ্টা সময় নেবেন?

হাদি হত্যার বিচার না হলে এই রাষ্ট্রে আর কখনো কারো জন্য মানুষ কাঁদবে না, রাস্তায় নামবে না, লড়াই করবে না। আপনারা যদি ভাবেন, হাদির পরিবারকে এটা দিচ্ছি ওটা দিচ্ছি করে বিচার কাজ বন্ধ করবেন তাহলে সেটা আপনাদের চরম বোকামি। হাদি কী আর তার পরিবারের একার আছে? সে তো সারা বাংলাদেশের। পুরো বাংলাদেশের মানুষ জানে কোথায় সমস্যা আর কেন দেরি হচ্ছে বিচার কাজে। আপনারা যত দেরি করবেন আমরা ততবেশি ঐক্যবদ্ধ হবো।
 
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, সরকার কী দিচ্ছে না দিচ্ছে এসব ব্যাপারে আমি পুরোপুরি অবগত নই, আর এসবে আমার আগ্রহও নেই। আমার কনসার্ন হলো, যে কোনো কিছুর বিনিময়ে আমার স্বামী শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আর তার রেখে যাওয়া আমানত আমার ছেলে ফিরনাসের সিকিউরড ভবিষ্যৎ। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।
 
উল্লেখ্য, পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলি লাগে। তিনি মারাত্মক জখম হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।