দুদকের জালে ফারইস্টের চেয়ারম্যানসহ ৬ জন

১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রতিষ্ঠানের সিভিল ও ইলেকট্রো মেকানিক রেট্রোফিটিং কাজের নামে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর এবং ঋণ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে করা মামলার এজাহার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কোম্পানিটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ, প্রধান প্রকৌশলী ও বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমীর মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যাংকিং এবং ইনভেস্টমেন্ট শাখা প্রধান শেখ আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট ও কমপ্লায়েন্স মো. কামাল হোসেন হাওলাদার।
২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সিভিল ও ইলেকট্রো মেকানিক রেট্রোফিটিং কাজের নামে অর্থ ছাড় করে হয়। তবে ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট সাবকমিটির সভার এজেন্ডায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদানের কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর পরদিনই কোম্পানির পক্ষ থেকে ওই অর্থ কাজের জন্য ছাড় করা হয়। পরে ১৭ জানুয়ারি ও ১১ ফেব্রুয়ারি দুটি আবেদনের মাধ্যমে যথাক্রমে ৭ কোটি টাকা এবং ৬ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা বিল পরিশোধের আবেদন দেখানো হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৬টি চেকের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর করা হয়। অধিকাংশ চেকে সাবেক ডিএমডি ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ এবং সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহ স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় ফারইস্ট ইসলামী প্রোপার্টিজ লিমিটেডের হিসাবে জমা করে একটি ঋণ সমন্বয় করা হয়। এ ছাড়া ৭ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার টাকা একই ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় জমা দিয়ে পাঁচটি ঋণ সমন্বয় করা হয়। আরও ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে।
ব্যাংকিং ও ইনভেস্টমেন্ট শাখা প্রধান হিসেবে শেখ আব্দুর রাজ্জাক সংশ্লিষ্ট চেকগুলোর কাস্টডিয়ান ছিলেন। অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে অবগত থাকার পরও তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি। একইভাবে ইন্টারনাল অডিট ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান হিসেবে মো. কামাল হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধেও যথাযথ তদারকি না করার অভিযোগ রয়েছে।
দুদক অভিযোগ বলছে, আসামিরা যোগসাজশ করে ভুয়া কার্যাদেশ, জাল বিল আবেদন ও ভাউচার তৈরি করে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং এর একটি অংশ ঋণ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর করেছেন।