জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে যুবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির দাবি

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বৈশ্বিক আলোচনায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং যুব প্রতিনিধিরা।
রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার অডিটোরিয়ামে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ঋণ নয়, বরং সরাসরি অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ে পরিচালিত গবেষণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে যুব প্রতিনিধিরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট, শিক্ষা বঞ্চনা এবং নদীভাঙনের মতো সমস্যা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য ও জবাবদিহিমূলক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানান।
জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. আইনুন নিশাত বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের সুযোগ থাকলেও আবেদন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং অনুদাননির্ভর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর শরীফ জামিল বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় তরুণদের শুধু অংশগ্রহণ করলেই হবে না, তাদের তথ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব সৃষ্টি করতে হবে।
যুব প্যানেলে বক্তারা মত দেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুবসমাজের দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি। তারা তৃণমূলভিত্তিক জলবায়ু উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলে আলোচকরা বলেন, পরিবেশগত সংকটের বাস্তব চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, গবেষণা এবং ডেটাভিত্তিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে কেবল বিচ্ছিন্ন দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বৈষম্য ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা জানান, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
পরিবেশবান্ধব আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে কোনো প্লাস্টিকজাত স্মারক ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে টবসহ জীবন্ত গাছ বিতরণ করা হয়, যা টেকসই পরিবেশ সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।


