logo

বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ, বাবার দাবি ‘এটা হত্যাকাণ্ড’

বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ, বাবার দাবি ‘এটা হত্যাকাণ্ড’
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে তাহসিফ সৌরির লাশবাহী গাড়ি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন কে. এম. তাহসিফ সৌরি (২৭)। পরে উত্তরখান থানা এলাকায় একটি নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। মরদেহটি তার ছেলে তাহসিফের বলে শনাক্ত করেছেন বাবা। তার দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং হত্যাকাণ্ড।

নিহতের বাবা বলেন, গত ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পর এক বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হয় এবং থানায় যোগাযোগ করা হয়। পরে উত্তরখান থানা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর দেওয়া হলে তিনি সেখানে গিয়ে মরদেহটি তাঁর ছেলে তাহসিফের বলে শনাক্ত করেন।

তাহসিফের বাবা বলেন, ‘এটা হত্যাকাণ্ড। নদীতে ভেসে সাধারণত এ এলাকায় লাশ আসার কথা নয়। বিষয়টি পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আরও পরিষ্কার হবে। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হোক।’

তিনি জানান, তার ছেলে কে. এম. তাহসিফ সৌরি অত্যন্ত সৎ, ভদ্র, বিনয়ী ও সামাজিক মানুষ ছিলেন। সবার কাছেই তিনি অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে সর্বশেষ চাকরি করেছেন তাহসিফ। ২৭ বছর বয়সি এই যুবক অবিবাহিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন সারাদিন মাকে সঙ্গে নিয়ে বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়র ছোট ভাইয়ের ডাকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন তাহসিফ।

তার বাবার দাবি, এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে পুলিশের দেয়া তথ্যে ছেলের মরদেহের সন্ধান পান তারা। রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তার ছেলে এর আগে কখনও যাননি।

এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

সৈয়দ মুহাম্মদ আজম

সম্পাদনা

সৈয়দ মুহাম্মদ আজম

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট