logo

প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার আরিফুল ও সানি। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার শফিরকান্দি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শফিরকান্দি গ্রামের আরিফুল (৩০) ও সানি (২২)।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী মুনতাছিরের (২১) বাবা মোতাহার হোসাইন প্রায় পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। গত ১১ জানুয়ারি বিকেলে মুনতাছিরের মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা নিতে তাকে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়।

সেখানে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও সাড়ে আট হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।

পরে অপহরণকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে মুনতাছিরকে হত্যার হুমকি দেয়।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলে অনুসন্ধান শুরু হয়। পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মুনতাছিরকে তুলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা দক্ষিণখান থানায় অপহরণ, মারধর, অবৈধভাবে আটক, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা করেন।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। দেশে এসে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়ে পুনরায় মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

সিআইডি জানায়, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায়ের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় সিআইডি।

সিআইডি জানায়, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগ পরিচালনা করছে।