প্রতারণা করে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর দারুস সালামে জমি কেনার কথা বলে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ও সুমন আহমেদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রো উত্তর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
তিনি জানান, জমি কেনার প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে মুহাম্মদ ফারুক হোসেন নামে ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে চক্রের মূল হোতা সাহাবুদ্দিন ১০ লাখ, জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ১৭ লাখ এবং সুমন আহমেদ ৩ লাখ টাকা ভাগ করে নেন।
পিবিআই কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী মুহাম্মদ ফারুক হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর জমির শেয়ার বিক্রির একটি বিজ্ঞাপন দেখে তিনি সাইফুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সাইফুল তাকে সাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ধানমন্ডিতে সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ফারুকের পরিচয় হয়। সাহাবুদ্দিন নিজেকে সচিব পরিচয় দিয়ে তাকে সাভারের বিলামালিয়া মৌজায় ৫৮ শতক জমি কেনার প্রস্তাব দেন। পরে জমির মালিক হিসেবে জাহাঙ্গীর নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে ফারুককে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, জমির বায়না বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলে ফারুক ব্যাংক থেকে ৭ লাখ এবং বাসা থেকে ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে সাইফুলের মাধ্যমে ওই টাকা জাহাঙ্গীরকে দেন। এ সময় ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নানামা তৈরি করে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
পরদিন আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হলে ফারুক ওই টাকা সংগ্রহ করে ডেলটা হাসপাতালে গিয়ে সাইফুল ও জাহাঙ্গীরকে দেন। এর বিনিময়ে তিনি বায়নানামার মূল কপি নেন। এরপর সাহাবুদ্দিনসহ চক্রের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ফারুক হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ আগস্ট দারুস সালাম থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, মামলার তদন্তে সাহাবুদ্দিনকে অন্য একটি প্রতারণার মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সাহাবুদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর নামে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সুমন আহমেদ বলে জানা যায়। পরে পিবিআইয়ের একটি দল সুমন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রতারণার ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
