logo

ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জুরাইনে দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরিচ্ছন্ন ঢাকার ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) জুরাইনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘গতকাল নগরীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেছি। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কাজ করছে। অনেক এলাকার বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে এখনও বেশ কিছু এলাকায় কাজ বাকি আছে। আপনারা (নগরবাসী) নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই শহরটিকে পরিষ্কার রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিভির পর্দায় যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখেন, তখন একবারও মনে হয় না, আমাদের রাস্তাঘাট এত নোংরা কেনো? আমার কিন্তু হিংসা হয় যে বাইরের দেশের রাস্তাঘাট এত পরিষ্কার; দেশেরগুলো কেন নয়? বিদেশে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী যেমন পরিষ্কার করে, তেমনি সেদেশের জনগণও যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি (নগরবাসী) সরকারের কেউ নন। কিন্তু আপনি যেই কাজটি করতে পারেন তা হলো- চেষ্টা করবেন আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলতে। আজ যদি মনে করেন যে আবর্জনাটা ফেলছেন, তা পরিমাণে বেশি নয়। আগামীকাল সেটিই জমে দ্বিগুণ হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, একবার ভেবে দেখেন, এখানে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়েছি। প্রত্যেকে যদি এক কেজি করে ময়লা এখানে ফেলি, তাহলে প্রায় ১০ হাজার কেজি অর্থাৎ ১০ টন জমা হয়ে যাবে। আমরা যদি প্রত্যেকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলি তাহলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিষ্কার করাও সহজ হবে।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও তো মানুষ। সারাদিন রোদ, ধূলা, গরম এবং যানবহনের কালো ধোঁয়া ও হর্নের মধ্যে ময়লা পরিষ্কার করতে তাদেরও কষ্ট হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করলে নিজের শহরটাকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব। আর একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অল্প একটু জায়গাটা পরিষ্কার করতে পারবে। সুতরাং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে আপনার সন্তান, বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদেও নিয়ে সুন্দর পরিবেশের মধ্যে থাকতে পারবেন।

তিনি বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সরকারের কেউ হবার দরকার নাই; এমপি, মন্ত্রী বা মেয়র হবার দরকার নাই। এমনকি ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ারও দরকার নাই। একজন সুনাগরিকের কর্তব্য হিসেবেই আপনি কাজটি করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেন, ময়লা টিস্যু পেপার বা কাগজ পকেটে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। বাদাম খেয়ে খোসাটা পর্যন্ত যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না।

নগরবাসীর উদ্দেশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ধরেন আপনি একটা সাদা শার্ট পড়েছেন। হঠাৎ চা বা খাবার পড়ল, দেখবেন নিজের কাছেই খারাপ লাগবে? ময়লা দাগওয়ালা শার্ট পড়ে থাকতে ইচ্ছা করবে না। কাজেই আসুন সকলে মিলে চেষ্টা করি, তাহলেই দেশটাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তুলতে পারব।

দেশটা কারোর একার না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি যেমন সরকারের একার না, তেমনি রাজনৈতিক দলের একার না। আবার কোনো পরিবার বা ব্যক্তির একার না। এদেশ কোটি মানুষের। ২০ কোটি মানুষের প্রত্যেকে এই বাংলাদেশের অংশীদার; প্রত্যেকেই মালিক।

তিনি বলেন, এই দেশকে যদি গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। এই দেশকে সুন্দরভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রত্যেককে পরিশ্রম করতে হবে। আসুন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীতে আমরা শপথ নেই, দেশটাকে সকলে মিলে গড়ে তোলার। আপনি যদি আপনার এলাকা ও দেশকে ভালোবাসেন তাহলে যে কাজটি ক্ষুদ্র হলেও এলাকা ও দেশের জন্য ভালো সেটি করবেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদ, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।