গরমের মাঝেও ঢাকায় হঠাৎ কেন কুয়াশা

রাজধানীসহ সারাদেশে কার্যত আর শীত নেই। ভ্যাপসা গরম অনেকটাই অনুভূত হওয়া শুরু হয়েছে। এই গরমের মধ্যেই হঠাৎ রাজধানীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে তীব্র কুয়াশা পড়েছে। এতে অনেকটাই বিস্মিত হয়েছে নগরবাসী।
সাধারণত শীতের সময় কুয়াশা দেখা গেলেও চৈত্রের এ সময়ে এমন আবহাওয়া অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে আবহাওয়া গবেষকদের মধ্যে, এটি আসলে স্বাভাবিক কুয়াশা নয়; বরং ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বা স্টিম ফগ। হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
হঠাৎ করে কুয়াশা কেন তৈরি হচ্ছে এমন প্রশ্নে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ওয়েদার অবজারভেশন টিম তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, কুয়াশা তখনই তৈরি হয়, যখন বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ছোট ছোট পানির ফোঁটায় পরিণত হয়ে বাতাসে ভেসে থাকে। এই প্রক্রিয়াটি ঘটে যখন বাতাসের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে গিয়ে শিশিরবিন্দুতে পৌঁছে যায় বা তার কাছাকাছি হয়।
তারা জানিয়েছে, গরমের দিনে সূর্যের তাপে প্রচুর পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ (আর্দ্রতা) বেড়ে যায়। পরে রাতের বেলায়, বিশেষ করে ভোরের দিকে, তাপমাত্রা কমতে থাকলে বাতাস শিশিরবিন্দুর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তখন জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ছোট ছোট পানির ফোঁটায় পরিণত হয় এবং কুয়াশা তৈরি করে।
কুয়াশা তৈরির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে বাতাসে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা, তাপমাত্রা কমে শিশিরবিন্দুতে পৌঁছানো ও বাতাসের গতি কম বা হালকা থাকা (একেবারে স্থির না হয়ে হালকা চলাচল থাকলে কুয়াশা ভালোভাবে ছড়াতে পারে)।
বিশেষ করে বৃষ্টির পর বা নদী, খাল, পুকুরের আশেপাশে কুয়াশা বেশি দেখা যায়। কারণ এসব জায়গায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। গরমকালে বৃষ্টি হওয়ার পর ভোরে মাটি ও পানির তাপমাত্রা দ্রুত কমে গেলে মাটির কাছাকাছি বাতাসে কুয়াশা তৈরি হতে পারে।
তবে গরমকালে সাধারণত ঘন কুয়াশা খুব বেশি দেখা যায় না। এ সময় অনেক ক্ষেত্রে হালকা কুয়াশা বা জলাশয়ের কাছাকাছি ‘স্টিম ফগ’ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে। এ ছাড়াও আরও কিছু কারণ আছে কুয়াশা তৈরির জন্য।