logo

আসন্ন নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মনে করছে না সিপিডি

আসন্ন নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মনে করছে না সিপিডি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলে মনে করে না বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শনিবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে যে অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা প্রয়োজন, বাস্তবে সে অর্থে এটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যাচ্ছে না। একটি বড় জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণ উপেক্ষা করা হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক বলেন, অধিকাংশ জরিপে পতিত দলের ভোটারদের এবারের নির্বাচনে নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটা বড় অংশের ভোটার তাদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী পছন্দের সুযোগ কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের কাঠামো ও অধ্যাদেশে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কারণে এর ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে বলে জানানো হয়। এমন বাস্তবতায় সিপিডি মনে করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

নির্বাচনি ইশতেহারের বিষয়ে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলো নতুনত্ব এনেছে। তারা অবকাঠামো উন্নয়নের গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি থেকে বেরিয়ে সামাজিক উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। তবে তাও যথেষ্ট নয়।

‘সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক এই ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় পরিচালিত জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে সিপিডি। তাদের গবেষণায় সারা দেশের পরিবেশ ও দুর্যোগপ্রবণ ১৫০টি নির্বাচনি এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

এ ছাড়া জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ ভোটার মনে করে রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে শহরাঞ্চলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের সঙ্গে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে দেখেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি), উপকূলীয় অঞ্চল, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এই ধারণা অত্যন্ত প্রবল।

ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও উন্নয়ন নিয়ে প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে।

ভোটারদের মধ্যে উন্নয়ন ধারণার এই একমুখী প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়ালে ফেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিপিডি। তাদের মতে, উন্নয়ন আলোচনায় কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনমানের বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জরিপে ১৫০টি নির্বাচনি এলাকার ৪৫০ নির্বাচন প্রার্থী বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১ হাজার ২০০ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে।