সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের বিকল্প নেই : চিফ হুইপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংসদ হবে এবারের সংসদ। কার্যকর, দায়িত্বশীল, প্রাণবন্ত সংসদে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারি দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সংসদের কার্যকারিতা ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সংসদকে প্রাণবন্ত করতে শক্তিশালী বিরোধী দলের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, বিরোধী দল সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল সংখ্যাধিক্যের জোরে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, বরং যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা। কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধী দলের ইতিবাচক সাড়া এখন সময়ের দাবি।
চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী চান সংসদ হবে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনসেবার প্রধান কেন্দ্র। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা সংসদ নেতার ওপর অর্পণ করেছে।
চিফ হুইপ বলেন, খালি চেয়ার দিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী একজন সভাপতির নাম প্রস্তাব করবেন। সংসদ সমর্থন করলে তার সভাপতিত্বে সভা শুরু হবে এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া নিয়ে চিফ হুইপ একটি বিশেষ কারিগরি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসনটি প্রথাগতভাবে খালি থাকবে। কার্যক্রম শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভার সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন। সংসদ সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানালে ওই জ্যেষ্ঠ সদস্য সাময়িকভাবে স্পিকারের আসনে বসে নির্বাচনপ্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। এরপরই সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং তারা শপথ গ্রহণ করবেন।