‘রাত হলেই বন্ধ রাখতে হতে পারে তেলের সরবরাহ’

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দিনের বেলায় চালু থাকলেও রাত নামলেই পাম্পগুলো বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হচ্ছে—এমনটাই জানিয়েছেন বিআরটিসির সহকারী পরিচালক (অব.) মেজর আবুল আলম মোহাম্মদ তৌহিদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা রেশনিংয়ে যেতে চাই না—যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, ততটুকুই গ্রাহকদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আজ রাত ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত পাম্প চালু রাখা সম্ভব হতে পারে। এরপর মজুত শেষ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে সরবরাহ স্থগিত করতে হবে।’
এই অবস্থায় পাম্পগুলোর কার্যক্রম এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রতিদিনের সরবরাহের ওপর। দিনের শুরুতে জ্বালানি থাকলেও চাহিদার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তা ফুরিয়ে যাচ্ছে, ফলে রাতের দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়াই যেন নিয়মে পরিণত হচ্ছে। যোগ করেন তিনি।
তৌহিদ জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৪ হাজার লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। ছুটির সময় চাহিদা বেড়ে তা দেড় লাখ লিটার পর্যন্তও উঠত। কিন্তু বর্তমানে সেই তুলনায় অনেক কম জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, 'আজ আমরা প্রায় ৩৬ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি, কিন্তু ডিজেলের সরবরাহ পাইনি। এই সীমিত সরবরাহ দিয়েই আমাদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে।'
ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না আসাই এই সংকটের প্রধান কারণ বলে জানান তিনি। তবে ইতোমধ্যে কিছু তেল এসেছে এবং দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে যে কোনো সময় পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, কোম্পানিগুলোর সরবরাহ করা তেল দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এবং পাম্পকর্মীরাও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি নিয়ে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নেওয়ার প্রবণতায় প্রকৃত গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
কয়েকটি এলাকায় জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও কয়েক দিনের মজুত অল্প সময়েই শেষ হয়ে গেছে অতিরিক্ত চাপের কারণে।
সংগঠনটির মতে, শুধু পাম্প নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে, রেশনিং এড়ানোর চেষ্টা থাকলেও সীমিত সরবরাহের কারণে “দিনে চালু, রাতে বন্ধ”—এই নতুন বাস্তবতায় পড়েছে দেশের জ্বালানি খাত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম।