গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ যাবে, এটা মিথ্যাচার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ যাওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ আছে, বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এগুলো অপপ্রচার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে এ সম্মেলন করা হয়।
আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মানুষ আর আইয়ামে জাহেলিয়াতে (অন্ধকার যুগে) ফিরতে চায় না।
তিনি সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইমামদেরকে ফ্যাসিবাদ রূখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশকে বদলাতে হলে সবার নৈতিক দায়িত্ব ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া। গণভোটের প্রশ্ন আসলে একটাই। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চান কি না? যারা চায় তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে। যারা ‘না’ ভোট দেবে তারা ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে চায়।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ শুধু কালো কালি দিয়ে লেখা নয়, এটা শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সন্তান হারানো মায়ের হাহাকার, বোনের আর্তনাদ, পিতার ক্রন্দন ও শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালনে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।
মনির হায়দার বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, ‘না’ মানে ফ্যাসিবাদ। নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই। নীরবতা মানে ‘না’ এর পক্ষে অবস্থান। এই সংবিধানের মাধ্যমে হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছে। এই সংবিধানের অধীনে যে কেউ ফেরাউন হয়ে উঠতে পারে। সংবিধান সংস্কারের জন্য ৩০টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাস আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটে একাত্তর মুছে যাবে, এটা ডাহা মিথ্যা।