logo

আওয়ামী লীগের কোনো প্রকল্পই ‘বাস্তবসম্মত হয়নি’ : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের কোনো প্রকল্পই ‘বাস্তবসম্মত হয়নি’ : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দেড় দশক ধরে চলা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার যেসব মেগা প্রকল্প বা অন্যান্য প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, সেসবের কোনোটিই ‘বাস্তবসম্মত হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি ভবনে ২০২৫-৩০ পাঁচ বছরের কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হয়। তাতে সভাপতি ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

পরে সম্মেলনে আসেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বিএনপি সরকারের আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে বলার সময় বিগত সরকারকে এভাবে দোষারোপ করেন।

তিতুমীর বলেন, ‘অতীতের কোনো প্রকল্পই বাস্তবসম্মত হয়নি। সব প্রকল্প স্বজনতোষী, পৃষ্ঠপোষকতা নির্ভরতার আঙ্গিকে নেওয়া হয়েছে। আপনি (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) আমাকে একটা দেখান যে যেই প্রকল্প আপনার বাস্তবায়নযোগ্য হয়েছে এবং পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে হয়নি?’

বর্তমান সরকার চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কী করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই একটা কমিটি হয়েছে এবং সে কমিটি কাজ শুরু করবে। এবং সেই কমিটি আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে তারা কাজ করবে।’

আগামী দিনের উন্নয়ন-কৌশল নির্ধারণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা প্রণয়নে একটা বড় রকমের প্যারাডাইম শিফট করতে হবে। অর্থাৎ এগুলো (পূর্বের পরিকল্পনা) কাজও করছে না, এগুলো যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল সেগুলো কখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং এর সাথে বাস্তবায়নের যে কৌশল সেগুলো ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো মোটাদাগে সরকারের (আওয়ামী লীগ) একধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমাদের সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার সাথে তো ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ পরিকল্পনার যে কমপ্লিমেন্টারিটি, সেটা রাখতে হবে। আমাদের একই সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা কীভাবে কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকে যাব। আবার একই সাথে মনে রাখতে হবে যে বর্তমান বিশ্বের যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে, সেই পরিবর্তনগুলো আগে আমরা ধারণ করব এবং ধারণ করে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে, যাতে করে আমরা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হই।’

এ সময় ব্যক্তি খাত কীভাবে এ কৌশলে উপকৃত হবে, তারও ব্যাখ্যা দিয়ে তিতুমীর বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে নীতির ক্ষেত্রে আপনার প্রেডিক্টেবলিটি থাকতে হবে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী জানবেন যে নীতিকৌশলগুলো আপনার প্রেডিক্টেবল আছে এবং এই পুরোর ক্ষেত্রে আমাদের একটা নতুন দার্শনিক ভিত্তি আছে। সেই দার্শনিক ভিত্তিটা হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ দরকার। অর্থাৎ সর্বজনের অংশগ্রহণে অর্থনীতি, যাতে করে প্রতিটি সমাজের প্রতিটি মানুষ প্রতিজন মানুষ দেখতে পান যে তার অংশগ্রহণ কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘একই সাথে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে প্রতিটি থিম, জলবায়ু পরিবর্তন হোক আর অন্য বিষয় হোক, সেটাও নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং একই সাথে আমরা নিশ্চিত করতে চাই ডেমোগ্রাফির, অর্থাৎ শিশু থেকে বয়স্ক প্রবীণ পর্যন্ত। একদিকে যেমন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কথা বলা দরকার, তেমনি লঞ্জিভিটি ডিভিডেন্ডের কথা বলা দরকার।’

কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে ২০২৫ থেকে ৩০ সাল নাগাদ পঞ্চবার্ষিকী কৌশল নির্ধারণের একটা খসড়া করবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন। একই সঙ্গে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমান চলমান সংকটকে সুযোগে পরিণত করার জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আগে পরিকল্পনার নামে স্বরচিত ও স্বকল্পিত চমৎকার গল্প রচিত হয়েছে। এখন কর্মসংস্থান তৈরি হয়, এমনভাবে পরিকল্পনা করা হবে। সরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে ব্যক্তি খাতের সমন্বয় থাকতে হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানসহ বিদ্যুৎ-জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

এ ছাড়া নতুন করে পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন জানান, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষ হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজের প্রতিবন্ধকতা হলে যেকোনো কিছু পুরোপুরি উচ্ছেদ করা যায় না। তাই চলমান প্রকল্পগুলো পুনঃসজ্জিত করা হবে।

এর আগে কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।