কানাডা ছাড়তে হচ্ছে ৯৬৮ বাংলাদেশিকে

আইনি অনুমোদন ছাড়া বসবাস এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক বা অনিয়মিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডা থেকে অবিলম্বে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা নাগরিকদের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
কানাডা বর্তমানে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু কঠোরতা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীসহ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের বহিষ্কারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) ‘রিমুভালস ইন প্রোগ্রেস’ তালিকার তথ্য (৩০ জুন পর্যন্ত) অনুযায়ী, ৯৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফেরত পাঠানো নিশ্চিত হয়েছে এমন বিদেশি নাগরিকদের এ তালিকায় দশম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
২০২০ সালের তথ্যেও বাংলাদেশ শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ছিল—সে বছর ৩০৮ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) তথ্য মতে, ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আসার পর কানাডায় আশ্রয় আবেদনকারীদের তালিকায় বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। ভিজিটর ভিসায় কানাডায় আসা বিদেশিদের মধ্যে যে ১৭৫ জন পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৪০ হাজার ৮২৭ জনের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জনই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশিদের অবস্থান ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। ইউরোপের দেশগুলো এরই মধ্যে আশ্রয় দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সাগরপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রা ও মানব পাচারের মতো ইস্যু বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ কী
সিবিএসএর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডা থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সবচেয়ে বড় কারণ অপরাধ নয়, বরং অভিবাসন আইন মেনে না চলা, বিশেষ করে শরণার্থী (রিফিউজি) দাবিদারদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা বেশি ঘটেছে।
২০২৫ সালে মোট ২৩ হাজার ১৬০টি ফেরত পাঠানোর মধ্যে ১৯ হাজার ২২৫টি ছিল Refugee claimants-এর Non- compliance বা অভিবাসন আইনের সঙ্গে অসংগতির কারণে। অন্যদিকে অপরাধের কারণে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৬৬ নয়, বরং ১ হাজার ৬৬ জন। সংগঠিত অপরাধের (Organized crime) ক্ষেত্রে ৯৮টি, ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৪৫টি এবং শরণার্থীর (refugee status cessation) ক্ষেত্রে দেশের ফেরত পাঠানোর ৪৬টি ঘটনা ঘটেছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মোট ১০ হাজার ৬০৭টি ফেরত পাঠানোর ঘটনার মধ্যে ৮ হাজার ৫৫১টি Refugee claimants-এর Non compliance এবং ১ হাজার ৩০৩টি, non-Claimants-এর Non-compliance-এর কারণে হয়েছে। অপরাধের কারণে হয়েছে ৬২৪টি। অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের মোট ফেরত পাঠানোর প্রায় ৮১ শতাংশ Refugee claimant Non-compliance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
সিবিএসএর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক—৩ হাজার ৩২৩ জন।
সিবিএসএর হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফেরত পাঠানোর তালিকায় ভারতের পর রয়েছে মেক্সিকো—১ হাজার ৫৭৩ জন। এরপর হাইতি ৪৩১, যুক্তরাষ্ট্র ৩৭২, কলম্বিয়া ৩৫৪, রোমানিয়া ২৯৩ এবং বাংলাদেশ ২২৭ জন। পাকিস্তান থেকে ২০৭, নাইজেরিয়া থেকে ২০৫ এবং চিলি থেকে ১৯০ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা
.png)


