বিলুপ্ত হলো র্যাব, এসআরবি বিল সংসদে পাস

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠভোটে এই বিল পাস হয়।
এদিন সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন পাসের কার্যক্রম শুরু হলে বিলটি পাসের আগে স্পিকার বলেন, ‘আমরা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল ২০২৬ পাসের স্তরে রয়েছি।’
এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট চান স্পিকার। এ সময় কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। পরে বিলের দফায় সংশোধনী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসআরবি বিল পাসের জন্য উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সমাজের চাহিদার কারণেই এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।
তবে বিল পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের কয়েকজন আইনটি পাস না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘র্যাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এ জাতির সামগ্রিক অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। তার কিছুটা ইতিবাচক দিক থাকলেও নেতিবাচক দিক এত বেশি ছিল যে গোটা বিশ্ব চিন্তিত হয়ে পড়ে।’
দাবি করে তিনি বলেন, র্যাব পুনর্গঠনের দাবি কারও ছিল না, বিলুপ্তের দাবিই ছিল। এখন কোনো পরিবর্তন না করে হুবহু একই রাখা হয়েছে। এ সময় তিনি বিলটি এখন পাস না করে এটি প্রত্যাহার করে নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর কথা বলেন ২০০৪ সালে র্যাব গঠনের সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এবং বর্তমানে বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। র্যাবের নেতিবাচক দিকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, র্যাবের মতো একটি বাহিনী এখনো দরকার রয়েছে।
পরে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের দাবি কারও ছিল না, সেটা ঠিক। তবে এটা সমাজের দাবি, সমাজের চাহিদা। সমাজের দাবি অনুসারে এখন এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।
সমাজের চাহিদায় অপরাধ দমনে নতুন আইন প্রণয়নের নজির আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের জন্য আইনও সংশোধন হচ্ছে। পুলিশ বিভাগের অধীনে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও সরকার ভাবছে।


