কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩ বন্দির মৃত্যু, ঢামেকে মরদেহ

ঢাকার (কেরানীগঞ্জ) কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এক হাজতি ও ২ কয়েদির ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কারাগারে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে ভর্তি করেন।
নিহত দুজন হলেন, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সেকান্দার আলীর ছেলে হাজতি আবুল বাশার (৫৪) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুদু মিয়ার ছেলে কয়েদি আব্দুল কাইয়ুম (৬২)। তারা কোন মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে কারারক্ষীরা তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
কারারক্ষী শহীদ ও হেমায়েত হোসেন জানান, সকালে কারাগারের দুটি স্থানে আবুল বাশার ও আব্দুল কাইয়ুম হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত তাদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ দুইটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অপরদিকে, ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন লিটন (৪৮) নামের কয়েদি অসুস্থ হলে ঢাকা মেডিকেলে নিলে তাকে ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি দেওয়া হয়। রোববার সকাল ৯টার দিকে ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। রোববার সকালের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লিটনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, ২৮ আগস্ট শাহাদাত হোসেন লিটন কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি দেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সকালে মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, নিহত শাহাদাত হোসেন লিটন কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি হিসেবে ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল কাদের। গ্রামের বাড়ি খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামে। তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ১১/০৭ এবং উত্তরা থানার মামলা ৯(১১)০৬-এর ৩০২, ৩৪ ও ২০১ ধারার মামলায় বন্দী ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তে জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। ময়নাতদন্তের শেষে মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হবে।


