এবার ইউরোপে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলেন হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূর

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে আবারও বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার গৌরব তুলে ধরলেন হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাবিবুল কুরআন ইউকে’ আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন কম্পিটিশন-২০২৬-এ তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইউরোপের বুকে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। হাফেজ সাদের এই অনন্য কৃতিত্ব বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের বোল্টনে অবস্থিত ঐতিহাসিক জাকারিয়া জামে মসজিদে গত ২৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই বৃহৎ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মোট ১১০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ‘এটু’ গ্রুপে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূর এই সাফল্য ছিনিয়ে আনেন। তার অসাধারণ ও সুললিত তিলাওয়াতের মাধ্যমে তিনি বিচারকদের মুগ্ধ করেন। ফলাফল ঘোষণার পর আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সনদ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিশ্বজয়ী এই হাফেজ রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১-এ অবস্থিত স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল-ইসলামী ঢাকার কিতাব বিভাগের একজন কৃতি ছাত্র।
এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর আগেও এই মাদ্রাসা থেকেই হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম, মুয়াজ মাহমুদ ও আনাস মাহফুজরা সৌদি আরব, দুবাই, ইরান, তুরস্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্ব জয় করেছেন। হাফেজ সাদ সেই সাফল্যের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করলেন।
হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূরের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে মারকাযু ফয়জিল কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, হাফেজ সাদ নূরের এই সাফল্যে আমরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এই অর্জন শুধু সাদ নূরের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের। আমাদের লক্ষ্য হলো কুরআনের আদর্শে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা; যাতে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এবং কুরআনময় বিশ্ব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এই কৃতি হাফেজের সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মের কুরআন শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



