ভোক্তার পরিচালক হলেন আতিয়া ও মাসুম

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন আতিয়া সুলতানা ও মো. মাসুম আরেফিন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের পদোন্নতির আদেশ জারি করা হয়। এর আগে, তারা দুজনই অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আতিয়া সুলতানা ও মো. মাসুম আরেফিন অধিদপ্তরের প্রথম ব্যাচের কর্মকর্তা। তাদের এই পদোন্নতির মাধ্যমে এবারই প্রথম অধিদপ্তর থেকে নিজস্ব পরিচালক হলো। বর্তমানে অধিদপ্তরে তিনটি পরিচালক পদ রয়েছে। তবে তিনটি পদেই মন্ত্রণালয় থেকে জনবল পাঠানো হতো। এই পদোন্নতির মাধ্যমে এখন থেকে তিনটি পরিচালক পদের দুটি অধিদপ্তর থেকেই পূরণ হলো।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ডিএনসিআরপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান; যা দেশের সকল ভোক্তার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে।
অধিদপ্তরে বর্তমানে প্রায় ২১০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। যারা দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বাজার তদারকিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি আধা-বিচারিক সরকারি সংস্থা। ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং অসাধু ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর অধীনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০০৯ সালে আইনটি পাসের পর এই অধিদপ্তর যাত্রা শুরু করে। এর প্রধান লক্ষ্য পণ্যের মান নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট রোধ করা এবং ওজনে কারচুপি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মতো প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা।
যেকোনো ভোক্তা পণ্য বা সেবা ক্রয় করে প্রতারিত হলে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অধিদপ্তর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করতে পারে। এই আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয়, যা নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। ভেজাল খাদ্য, নকল ওষুধ, এবং মিথ্যা বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে সংস্থাটি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোনো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের জেল বা ২ লক্ষ টাকা জরিমানা (কিংবা উভয় দণ্ড) প্রদানের বিধান রয়েছে।
এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে প্রতিটি বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ে অধিদপ্তরের কার্যক্রম বিস্তৃত। বর্তমানে এটি বাংলাদেশে বাজার নিয়ন্ত্রণে ও জনস্বার্থ রক্ষায় সবচেয়ে সক্রিয় সংস্থাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।