সরকারের ১০০ দিনে অপরাধের ফিরিস্তি তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের চিত্র তুলে ধরে গত তিন মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধির অধীনে দেওয়া নোটিশের ওপর দুই মিনিটের বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কী আর করা, তার অনুপস্থিতিতেই বলতে হচ্ছে।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দাবি করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই সময়ে ৪৭৬টি খুন ও ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।
রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, আলোচিত এই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ৪৯ থেকে ৭১ জন। এই পরিসংখ্যানটি স্পষ্ট করে দেয় যে বাংলাদেশে গত তিন মাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা কী।
তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম যে এই সরকারের অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা এই দুটো বিষয়ে যারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, তাদের ওপর নির্ভর করবে ৫০ ভাগ এবং বাকি ৫০ ভাগ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ওপরে যে এই সরকার কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হবে।
আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকলে তার পক্ষে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলা সহজ হতো উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, এই সরকারের সফলতার ৫০ ভাগ দায় অর্থ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে।