মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

সৌদি আরবের মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কারণ জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদিতে দুই বাংলাদেশি মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা বহু বছর ধরেই একইভাবে চলে আসছে। সেখানে বসবাস ও কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ওই দেশের আইনকানুন মেনে চলতে হবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির ফাঁসির আদেশ নিয়ে এখনো কিছু জানতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সৌদি আরবের একটি নিজস্ব আইনি কাঠামো আছে। সেই আইনি কাঠামো অনুযায়ী কেউ যদি গর্হিত অন্যায় কাজ করে, তখন সেই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের সাজা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেরা কষ্ট করে নিজেদের টাকা-পয়সা খরচ করে বিদেশে গিয়ে চাকরি করেন। তাদের সব সময় মনে রাখা উচিত, যে দেশে তারা থাকবেন, সেই দেশের আইনকানুন মেনে চলতে হবে। কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটলে তখন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের খুব একটা করার থাকে না।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশেও বিদেশিরা অপরাধ করলে দেশের আইন অনুযায়ী তাদের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তি ভোগ করতে হয়। একইভাবে সৌদি আরবেও সে দেশের আইন কার্যকর হবে। এ ঘটনাকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি শিক্ষা।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক। এ ধরনের খবর আমরা আশা করি না, শুনতেও চাই না। সৌদি সরকারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়েছি। আমরা একটু অপেক্ষা করি, তাদের জবাব জানি। এরপর বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলতে পারব।’
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের যা যা জানার প্রয়োজন, তা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।’
সৌদি সরকারের কাছ থেকে উত্তর পেলেই মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যোগ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সৌদি মিশনের শ্রম উইং থেকে বার্তা এসেছে ওই দুই বাংলাদেশি মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ্যন্তরে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন, যা সৌদি আইনে একটি গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য। ওই আইন অনুযায়ী আদালত ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

