logo

ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো শুরু করে ইরান। এসব ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে মারা যান মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাসিন্দা আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমেদ (৫৫)। তার পুরনো বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। পরে বড়লেখায় বাড়ি করেন। বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আজমানে পানি সরবরাহের কাজ করতেন। শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কাজে বের হলে বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়।

সালেহ আহমেদের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলি বেগম জানান, শনিবার থেকেই তারা সালেহ আহমেদের মৃত্যুর খবর শুনছিলেন, তবে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তবে রোববার দুপুরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা নিহতের সহকর্মীরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

কীভাবে মারা গেলেন জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা শুনেছেন ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা স্বজনরা হাসপাতালে মরদেহ দেখার জন্য যাচ্ছেন।

এ ছাড়া বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন মো. তারেক নামে এক প্রবাসী। তিনি চট্টগ্রামের সন্দীপ উপজেলার বাসিন্দা। রোববার (১ মার্চ) বাহরাইনের স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে আসরি শিপ ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ দুটি ঘটনায় তিনজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

তারেকের মামাতো ভাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ভোরে মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইনে শিপ ইয়ার্ডে ডিউটিকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারেক নিহত হয়েছে।

তারেকের একজন সহকর্মী বলেন, ওই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে রাত ২টার দিকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। তিনজনই প্রবাসী বাংলাদেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মানামায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতে চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া।

তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। কুয়েত দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং রাষ্ট্রদূত হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থান করছে। দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদ রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা সতর্ক থাকেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন।

বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।