৫ বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার: লিসবনে ড. জিয়াউদ্দিন

মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ কংগ্রেসে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ১০০টিরও বেশি দেশের সরকার, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্যখাত রূপান্তরের সাহসী ভিশন তুলে ধরেন। তিনি জানান, চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উত্তরণের মাধ্যমে একটি সুস্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে বর্তমান সরকার।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার নারীরা যাতে ঘরের কাছেই নিরাপদ মাতৃসেবা পেতে পারেন, সেজন্য জটিলতামুক্ত প্রসব এসব প্রাথমিক ইউনিটেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে। আর এই উদ্যোগ সফল করতে প্রতিটি ইউনিটে কমপক্ষে দুইজন করে মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা ও জেলা হাসপাতালেও পর্যাপ্ত মিডওয়াইফ পদায়ন করা হবে।
সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মিডওয়াইফরা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষার প্রথম সারির যোদ্ধা। আগামী কয়েক বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ।
তিনি আরও জানান, কেবল নিয়োগই নয়, মিডওয়াইফারি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক পাঠক্রম প্রবর্তন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে মিডওয়াইফারি পেশার বিকাশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) দীর্ঘদিনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।
ভবিষ্যতেও ইউএনএফপিএ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে মিডওয়াইফারি সেবার মান উন্নত করা হবে।
৩ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ড. হায়দার বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।