logo
Advertisement

গণপরিবহনের ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর আবদার মালিকদের

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
গণপরিবহনের ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর আবদার মালিকদের

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে ভাড়া নির্ধারণ কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরিবহন মালিকদের দেওয়া খসড়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্টেকহোল্ডারদের উপস্থিতিতে এই সমন্বয় করা হবে।

এর আগে, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকেই সড়কে গণপরিবহন চলাচল কমিয়ে দেন মালিকরা। যার ফলে সকাল থেকেই সড়কে পরিবহন সংকটে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে।

বিআরটিএর এক কর্মকর্তা ও মালিক সমিতির এক নেতা নিশ্চিত করেছেন, বাসভাড়া বেড়ে কত হতে পারে তার একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মহানগরীগুলোতে ৬৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর আলাপ তোলা হবে। আর দূরপাল্লার বাসে ৩৭ শতাংশ ভাড়া বাড়াতে চান মালিকরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এরই সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রাংশের দামও ‍বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তেলের দাম দেখেই তো হবে না। আরও অনেক খরচ আছে। তখন ৮২ টাকায় ১ ডলার পাওয়া যেত। এখন তা ১৩০ টাকা। আমাদের সবকিছু আমদানি নির্ভর। শুধু ডলারের কারণেই ৫০ শতাংশ খরচ বেড়েছে। বাসের ভাড়া শুধু ঢাকার ভেতরেই কিলোমিটারে অন্তত ৪ টাকা ১০ পয়সা হওয়া উচিত। আর দূরপাল্লার ক্ষেত্রে সাড়ে ৩ টাকা। কারণ, ঢাকায় ১৬ ঘণ্টা বাস চালিয়েও ১৬০ কিলোমিটার চলা যায় না। আয় না হলেও খরচ তো ঠিকই হচ্ছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে মহানগরীতে প্রতি কিলোমিটারের জন্য গণপরিবহনের যাত্রীদের ২ টাকা ৪২ পয়সা হিসেবে ভাড়া দিতে হচ্ছে। আর দূরপাল্লায় যাত্রীরা ২ টাকা ৪৫ পয়সা হিসেবে ভাড়া দিচ্ছেন। মালিক সমিতির প্রস্তাব অনুযায়ী, ভাড়া বাড়লে মহানগরীতে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া হবে ৩ টাকা ৯৬ পয়সা ও দূরপাল্লার ক্ষেত্রে ৩ টাকা ৩৬ পয়সা ভাড়া হবে।

দেশে সর্বশেষ ২০২২ সালের ৬ আগস্ট বড় পরিসরে ভাড়া বেড়েছিল। তার আগে মহানগরে বাসের ভাড়া ছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা। পরে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। অর্থাৎ সে সময় কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া বাড়ে ৩৫ পয়সা। আর দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে করা হয় ২ টাকা ২০ পয়সা।

তখন বেড়েছিল মহানগরে মিনিবাসের ভাড়াও। কিলোমিটার প্রতি ৩৫ পয়সা বেড়ে ২ টাকা ৫ পয়সার জায়গায় করা হয় ২ টাকা ৪০ পয়সা। তবে মহানগরে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া থাকে আগেরটাই।

দুইবারের মূল্য বৃদ্ধি খেয়াল করলে দেখা যাবে, ২০২২ সালের জ্বলানির দামের তুলনায় এবার বৃদ্ধির পর তফাৎ খুব বেশি নেই। যদিও ভাড়া বাড়ানোর আবদারে ব্যাপক তফাত রয়েছে। তখন সর্ব্বোচ ভাড়া বেড়েছিল ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। আর এবার ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর আলোচনা উঠবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, যৌক্তিক হারে ভাড়া না বাড়লে গাড়ি চালানো কঠিন হবে। সবকিছুর দাম বাড়ছে, বাস ভাড়া কেন বাড়বে না। যদি বাসের ভাড়া বাড়ানো না হয়, তাহলে যন্ত্রাংশের দাম কমাতে বলব।

মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সর্বশেষ ভাড়া বাড়ানোর সময় শুধু জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যান্য খাত গুরুত্ব পায়নি। এখন যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ভাড়া কয়েক পয়সা কমলে এই সুফল যাত্রীরা পায় না। কিন্তু বাড়লে ঠিকই তা কার্যকর হয়। আর ভাড়া যেহেতু ৩ পয়সা, ৫ পয়সা করে কমেছিল এখন ১৫ পয়সা বাড়া উচিত। এর বেশি না। উল্টো দিকে মালিকরা যে তাদের নানা খরচের কথা বলে, তাহলে আমরা যাত্রীরাও তো সেবার মানের কথা বলতে পারি। ভাঙা বাসে উন্নত সেবার মানের ভাড়া দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।