logo
Advertisement

৩২টি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতি: গবেষণা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
৩২টি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতি: গবেষণা
প্রক্রিয়াজাত খাবার। ছবি: গণমাধ্যম থেকে নেওয়া

বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। গবেষণায় বিস্কুট, রুটি, কেক, চকলেট, নুডলস, আইসক্রিম, দুধের গুঁড়া, জুস, কফি ও বিভিন্ন ধরনের পানীয়সহ মোট ৩২টি খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। সেখানে তিনি এ তথ্য দেন।

গবেষণাটি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (JUST) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে। গবেষণার কাজে বাজার থেকে সংগ্রহ করা ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য ব্যবহার করা হয়। তবে গবেষণাপত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গবেষণাটির ফলাফল গত মাসে একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় ক্রোমিয়াম (Cr), নিকেল (Ni), কপার (Cu) ও সীসা (Pb)–এর উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি খাদ্যপণ্যে এসব ভারী ধাতুর মাত্রা আন্তর্জাতিক সহনীয় মাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ‘ক্রিম রোল’-এ ক্রোমিয়ামের মাত্রা ৭০ দশমিক ৮ গুণ এবং সীসার মাত্রা ৩৫৭ গুণ বেশি পাওয়া গেছে বলে গবেষণার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘মিল্ক চকলেট’-এ ক্রোমিয়াম ৫৩ দশমিক ৩ গুণ এবং সীসা ২৯৪ দশমিক ৯ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের পানীয়তে ভারী ধাতুর মাত্রা আরও বেশি পাওয়া গেছে। ‘ফ্রুট জুস (ড্রিংস)’-এ ক্রোমিয়াম ২৮৩ দশমিক ৬ গুণ, নিকেল ১৪৭ গুণ, কপার ৪ দশমিক ৭ গুণ এবং সীসা ৫৬৩ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

‘কফি’-তে ক্রোমিয়াম ৭৪ দশমিক ৪ গুণ, নিকেল ৩৯ দশমিক ৫ গুণ, কপার ১ দশমিক ৬ গুণ এবং সীসা ১৩৯ দশমিক ৫ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। ‘অরেঞ্জ জুস’-এ ক্রোমিয়াম ৯১ দশমিক ২ গুণ, নিকেল ৮৮ গুণ এবং সীসা ১০৯ গুণ বেশি পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘ড্রিংস-১’-এ ক্রোমিয়াম ১৯৮ দশমিক ৬ গুণ, নিকেল ২৩৭ দশমিক ৫ গুণ, কপার ২ দশমিক ১ গুণ এবং সীসা ২৩৪ দশমিক ৫ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। ‘লিচু ড্রিংস’-এ ক্রোমিয়াম ৪৩ দশমিক ৪ গুণ, নিকেল ৬১ গুণ, কপার ৬ দশমিক ৮ গুণ এবং সীসা ২২৯ দশমিক ৫ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণার ৩২টি নমুনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

‘ড্রিংস-২’-এ ক্রোমিয়াম ১৭৯ দশমিক ৮ গুণ, নিকেল ২৩৪ দশমিক ৫ গুণ, কপার ২ গুণ এবং সীসা ১৭৬ দশমিক ৫ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। আর ‘ড্রিংস-৩’—যেটিকে গবেষণার তথ্যে কৃত্রিম ম্যাঙ্গো ড্রিংস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—এ ক্রোমিয়াম ২৭৯ দশমিক ৬ গুণ, নিকেল ১৫১ গুণ, কপার ৪ দশমিক ৩ গুণ এবং সীসা ৫৯৪ গুণ বেশি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গবেষণায় অন্যান্য পণ্যের মধ্যেও ভারী ধাতুর উপস্থিতির তথ্য দেওয়া হয়েছে। ‘কেক-১’-এ ক্রোমিয়াম ১৮ দশমিক ৭ গুণ ও সীসা ১১৩ দশমিক ৩ গুণ, ‘বিস্কুট-৩’-এ ক্রোমিয়াম ৭ দশমিক ৩ গুণ ও সীসা ৪৬ দশমিক ৫ গুণ এবং ‘নুডলস’-এ ক্রোমিয়াম ২ দশমিক ৭ গুণ ও সীসা ৪১ দশমিক ১ গুণ বেশি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘হরলিকস’-এ ক্রোমিয়াম ১৩ দশমিক ৩ গুণ, নিকেল ৪ গুণ, কপার ৩ দশমিক ১ গুণ ও সীসা ৫১ দশমিক ৫ গুণ; ‘আইসক্রিম বার’-এ ক্রোমিয়াম ১৪ দশমিক ৯ গুণ, নিকেল ৪ গুণ ও সীসা ৪১ দশমিক ৮ গুণ এবং ‘কাপ আইসক্রিম’-এ ক্রোমিয়াম ১৩ গুণ, নিকেল ৩ দশমিক ২ গুণ ও সীসা ৩০ দশমিক ২ গুণ বেশি পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ‘ব্রেড’-এ ক্রোমিয়াম ৩ দশমিক ৬ গুণ ও সীসা ৩১ দশমিক ৩ গুণ, ‘চানাচুর’-এ ক্রোমিয়াম ৪ দশমিক ১ গুণ ও সীসা ৩০ দশমিক ৯ গুণ এবং ‘চিপস-২’-এ ক্রোমিয়াম ৩ দশমিক ৪ গুণ ও সীসা ২২ দশমিক ৯ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, পরীক্ষা করা খাদ্যপণ্যগুলোর মধ্যে কোনো কোনো পণ্যে একাধিক ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন পানীয়তে ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার ও সীসার মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার ‘ড্রিংস’ শ্রেণিতে কার্বোনেটেড বেভারেজ ও এনার্জি ড্রিংকসও অন্তর্ভুক্ত ছিল।