নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ধারদেনা করেও কুল পাচ্ছেন না ক্রেতারা

একদিকে বেতন বৃদ্ধির চাপ, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—দুই মিলে মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে চলেছে সবদিক থেকেই। এসব কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাত তুলে অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যেই বাড়িয়ে দিয়েছেন পণ্যের দাম।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের। গত কয়েক মাসে বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের দাম নতুন করে বেড়েছে। যেসব পণ্যের দাম এখনও স্থিতিশীল আছে, সেগুলোও শিগগির বাড়তে পারে বলে জানিয়ে রাখছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর বাজারের অনেক পণ্যের দামই লাগামছাড়া। বিশেষ করে টমেটো, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের পাশাপাশি, চিনি এবং সয়াবিন তেলের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আকারভেদে এক ডজন ডিমের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এক মাসের বেশি সময় ধরে ডিমের এই বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। এর আগে এক ডজন ডিম কিনতে খরচ হতো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।
মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও একই মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।
সোনালি মুরগির দামও এখন ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি। আর হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ডের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায়।
মাছ কিনতেও আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বর্তমানে তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মার্চেও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত।
রুই ও কাতলার দামও বেড়েছে। বর্তমানে এসব মাছের সাধারণ আকারের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। বড় রুইয়ের দাম উঠেছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
মাছ-মাংসের পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন সবজি। বাজারে পটোল ৮০, বরবটি ১২০, ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গোল বেগুনের কেজি ১৪০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা। করলা ও শসা ৮০ টাকা, টমেটো ১০০, গাজর ১৪০, কচু ৬০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। এছাড়া প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং চারটি কাঁচা কলার দাম ৪০ টাকা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় সয়াবিন তেল ও চিনির দামও ক্রেতাদের বাড়তি ভোগান্তিতে ফেলেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২০৪ টাকা, যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা।
অন্যদিকে এক মাসের ব্যবধানে খোলা চিনির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের দফায় দফায় দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সীমিত আয়ের পরিবারগুলো।
রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার ভাষ্য, কয়েক মাস আগেও তুলনামূলকভাবে কম খরচে সংসার চালানো সম্ভব হলেও এখন বাজার খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, ব্যয় কমাতে পরিবারের খাবারের তালিকা থেকেও বেশ কিছু পণ্য বাদ দিতে হয়েছে। গরুর মাংস ও ফল কেনা কমেছে। এমনকি আগে ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন সেটিও বন্ধ করেছেন। তবু মাসের খরচ মেটাতে তাকে ধারদেনা করতে হচ্ছে।
রবিউল ইসলাম বলেন, সবজি, মাছ, তেল, চিনি থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। কয়েক মাস আগে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে মাসের বাজার শেষ করা গেলেও এখন একই বাজার করতে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
তিনি জানান, ডিম, চিনি, তেল ও মাছের দাম সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ৩৫০ টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি। ফলে বাড়তি এই ব্যয় সামলানো তার পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

