ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় আটজনের মৃত্যু

ধান ও ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় এবং কাজ করে ফেরার পথে পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুর ও বিকেলে নওগাঁ, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও জামালপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁর দুই উপজেলায় তিনজন এবং ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
নওগাঁয় ধান কাটতে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু
নওগাঁর মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে কালবৈশাখীর সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাদেবপুর উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের লাটুয়াপাড়া গ্রামে দুপুরে বৃষ্টির সময় মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ি ফিরছিলেন দিলীপ বর্মন (৪৯) নামের এক কৃষক। পথে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত দিলীপ ওই এলাকার হরিচরণ বর্মনের ছেলে। একই ঘটনায় নারায়ণ ও জীবন নামে আরও দুই কৃষক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঝড়বৃষ্টির সময় মাঠ থেকে ফেরার পথে বজ্রপাতে দিলীপ বর্মনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা সৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অপরদিকে নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রাম এবং হাজিনগর ইউনিয়নে বজ্রপাতে এক কৃষক ও এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান দুজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাজিনগর ইউনিয়নে জমিতে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত শ্রমিক খাসের হাট ঊঠাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এ ছাড়া চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে জমি থেকে ধান তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে অনুকূল চন্দ্র মাহন্ত নামে আরও এক কৃষক মারা গেছেন।
ময়মনসিংহে ধান কাটতে গিয়ে দুই কৃষকের মৃত্যু
ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে নান্দাইল ও ফুলপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নান্দাইলের খারুয়া ইউনিয়নের হালিউড়া গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে আব্দুর রশীদ (৫৫) ও ফুলপুর উপজেলার কঠুরাকান্দা গ্রামের মৃত মহুর আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৪৫)। তারা দুজনই কৃষক।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে বাড়ির পাশের বিলে নিজের বোরো ক্ষেতের ধান কাটতে যান নান্দাইলের কৃষক আব্দুর রশীদ। এ সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে জমিতেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহে পুড়ে যাওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে বজ্রপাতের বিকট শব্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, বিকেলে আব্দুল কুদ্দুসসহ সাতজন ধান কাটার শ্রমিক ধান কাটছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে পাঁচ শ্রমিক ধানক্ষেত থেকে উঠে আসেন। কিন্তু আব্দুল কুদ্দুস ও তার বড় ছেলে আব্দুল মালেক ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে আব্দুল কুদ্দুস মারা যান। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের ধান কাটতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান। নিহত ওবাইদুল ওই গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে ওবাইদুল নিজ জমিতে ধান কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে সরাসরি তার ওপর বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান বলেন, ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
লালমনিরহাটে ভুট্টা তুলতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ভুট্টা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইউসুফ আলী ওই এলাকার আরব আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে নিজের ভুট্টাক্ষেতে কাজ করছিলেন ইউসুফ আলী। দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠ থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর পুনরায় ভুট্টাক্ষেতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্বর্ণা আহমেদ বলেন, ইউসুফ আলীকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুরে ভুট্টাক্ষেতে যুবকের মৃত্যু
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বজ্রপাতে সোহেল (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোহেল ওই গ্রামের শুকুর মামুদের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে বৃষ্টির আগমুহূর্তে এলাকায় হঠাৎ করে তীব্র বাতাস ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় সোহেল বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
[প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন নওগাঁ, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও জামালপুর প্রতিনিধি]