অনলাইন জুয়ার সংঘবদ্ধ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ৪৮৪টি অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ড, ৪৬টি স্মার্টফোন, আটটি ল্যাপটপ, ২৭টি ব্যাংক কার্ডসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে যশোর ও মাদারীপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সাগর শিকদার (৩২), অমল কীর্তনিয়া অভি (৩০), মিথুন সরকার (২৪), সুনীল মৃধা (২৫), কাজী উসরাত আঞ্জুমান মেঘা (২০), মারুফা (২১) ও মো. রাকিবুল হাসান (৩২)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপি জানায়, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করা হয়। এসব প্ল্যাটফর্ম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থ লেনদেনে বিভিন্ন এমএফএসের এজেন্ট, মার্চেন্ট ও পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরে ওইসব ওয়েবসাইট ও অ্যাপ থেকে পাওয়া এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ৪টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাগর শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪৮৪টি এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ড, ৪৬টি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, আটটি ল্যাপটপ, ২৭টি ব্যাংক কার্ড, তিনটি ডায়েরি ও দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
ডিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইট ও অ্যাপের জন্য এমএফএস ওয়ালেট সরবরাহ করে অর্থ লেনদেন সচল রাখাই ছিল চক্রটির প্রধান কাজ। বিপুলসংখ্যক এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালনায় সহায়তা করত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

