অনলাইন জুয়ার অর্থ বিদেশে পাচার, গ্রেপ্তার ৩

দেশে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার একটি দল।
শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার কুরুয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আলাউদ্দিন, ইয়াকুব আলীর ছেলে শাহাদাৎ হোসেন ও নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার বাঁশবাড়ী গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে সাহাবউদ্দিন।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের মতো অপরাধকর্মে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইডির এসপি জসিম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে বলে দেখা যায়। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর একটি মামলা করে।
মামলাটির তদন্তে জানা যায়, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।
এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল।
জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো। যা পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো।
এসপি জসিম বলেন, তদন্তে আরও জানা যায় যে, অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএসডি সার্কুলার (নং-০৭) অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু অনলাইন জুয়ার চক্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান উক্ত নির্দেশনা না মেনে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল। পরে সিআইডির একটি চৌকস দল চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার ও তাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।