logo

জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই পুলিশের বড় শক্তি: আইজিপি

জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই পুলিশের বড় শক্তি: আইজিপি

জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ২০২৫ ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেন ২০৯ জন প্রশিক্ষণার্থী। বর্ণাঢ্য আয়োজনের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি। 

তিনি কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জিএম আজিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য অতিথিরা।

প্যারেডটি পরিচালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শুভ কুমার ঘোষ, যিনি প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুশৃঙ্খল ও চৌকস পদচারণায় ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজন ক্যাডেট বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেন। এর মধ্যে ক্যাডেট এসআই ইজাজ আহম্মেদ হিমেল ‘বেস্ট ক্যাডেট’ ও ‘বেস্ট একাডেমিক’ নির্বাচিত হন। ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ হন ওলিউল্লাহ, ‘বেস্ট শুটার’ হিসেবে স্বীকৃতি পান শুভ বিশ্বাস এবং ‘বেস্ট সুইমার’ নির্বাচিত হন মো. রায়হান।

অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এই দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণ তাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও নৈতিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, তোমাদের সামনে যে পথ উন্মুক্ত হচ্ছে, তা যেমন সম্মানের, তেমনি দায়িত্বপূর্ণ। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই হবে তোমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আধুনিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি।

ভাষণের একপর্যায়ে তিনি নবীন কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন, পুলিশিং কেবল একটি চাকরি নয়, বরং একটি সেবামূলক পেশা—যার মূলমন্ত্র ‘সেবাই ধর্ম’। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে সার্বিক আয়োজনের জন্য পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধান অতিথি।

উল্লেখ্য, মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০৯ ক্যাডেট এসআইকে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।