‘ভুয়া বিসিএস ক্যাডার’ বিষয়ক প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

‘৯৫ ভুয়া বিসিএস ক্যাডারের সন্ধান’—শিরোনামে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এশিয়া পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিযুক্তদের কয়েকজন।
প্রতিবাদলিপিতে তারা বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের রুলস ১৯৮২-এর সংশোধিত বিধি ১৬এ অনুযায়ী (এসআরও-৫৫) ২৯তম বিসিএসে আমরা নিয়োগপ্রাপ্ত হই। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিতিজনিত শূন্য পদে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্য হতে মেধাক্রমের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে মূল বিধিতে এই ধারাটি সংযোজন করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, এই সংশোধিত বিধি অনুযায়ী ২৮-৩১ বিসিএসের মোট চারটি ব্যাচের শতাধিক কর্মকর্তাকে সুপারিশ করা হয়।
এসআরও-৫৫ এর গেজেট প্রকাশের পর ২০১৩ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেলোয়ার হোসেন নামে একজন রিট করলে হাইকোর্ট এসআরওটি অবৈধ মর্মে আদেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করলে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় খারিজ করেন এবং এসআরও-৫৫ বহাল করেন, তারা বলেন।
২৯তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তারা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন উল্লেখ করে লেখেন, পিএসসির সুপারিশের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রজ্ঞাপন মোতাবেক চাকরিতে যোগদান করি। একটি গ্রুপ আমাদের চাকরির শুরু থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা তথ্য বা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে।
অভিযুক্তরা বলেন, আমাদের নিয়োগ সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমাদের কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আইন প্রণয়ন, ফলাফল প্রস্তুত, সুপারিশ প্রদানসহ গেজেট প্রকাশের কোনো পর্যায়েই প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। নিয়োগ বিধি সংশোধন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সাধারণ প্রার্থী হিসেবে এ বিষয়ে আমাদের জানাও ছিল না। তাছাড়া আমরা প্রায় সবাই প্রথম শ্রেণির ক্যাডার অথবা নন-ক্যাডার পদে কর্মরত ছিলাম।
তারা বলেন, সামাজিক, পারিবারিক তথা কর্মক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের নামসহ মিথ্যা রিপোর্টের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যা অনভিপ্রেত। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ছবিসহ মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানিতে আমাদের নিয়োগকে বৈধ ও আইনানুগ হয়েছে জানিয়ে সরকার পক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছে। কোনো প্রকার অন্যায় না করেও আমাদেরকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সবশেষে অভিযুক্তরা বলেন, আমরা কোনো প্রকার অন্যায় তদবির বা দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি। এমনকি নন-ক্যাডার পদেও সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলাম না। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও আমাদের নেই। কাজেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে রিপোর্টের জন্য প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করেছেন তারা।