আমাদের করা আইনগুলো রাখতে সোচ্চার হচ্ছে দেশবাসী: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কারমূলক আইনগুলো নিয়ে কেউ কেউ নানা ধরনের সমালোচনা করেছিল জানিয়ে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের বন্ধু ও সমালোচকরা বুঝতে পারছেন, আমাদের প্রণীত আইনগুলো আসলেও ভালো ছিল এবং এসব করে রাখা দরকার ছিল। এই আইনগুলো রাখার দাবি নিয়ে পুরো দেশ এখন সোচ্চার হচ্ছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা একের পর এক উচ্চাভিলাষী আইন করে যাচ্ছিলাম। মানবাধিকার কমিশন, গুম, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, দুদক আইন ছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি। বলেছিলাম, এগুলোই প্রকৃত সংস্কারমূলক আইন।’
এসব আইন করার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারকে কেউ কেউ ‘অধ্যাদেশের সরকার’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অনেকে তখন ‘কোথায় সংস্কার, কোথায় সংস্কার’ বা ‘সরকার তো কিছুই করছে না’ বলে আমাদের নাকচ করেছেন। কেউ কেউ ‘অধ্যাদেশের সরকার’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। দুয়েকজন পণ্ডিত এমন কথাও বলেছে, এসব করে কি লাভ! এসব তো করবে নির্বাচিত সরকার!’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আইনগুলো রাখার দাবিতে দেশের মানুষ সোচ্চার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সাবেক আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন,
‘এখন এটা ভেবে ভালো লাগছে যে, আমাদের বন্ধু ও সমালোচকরা বুঝতে পারছেন, আমাদের প্রণীত আইনগুলো আসলেও ভালো ছিল এবং এসব করে রাখা দরকার ছিল। পুরো দেশ এখন সোচ্চার হচ্ছে এই আইনগুলো রাখার দাবি নিয়ে।’
এই আইনগুলো প্রণয়ন করতে অনেক কষ্ট হয়েছে বলছেন আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের তুখোড় মেধাবীদের নিয়ে গড়া একটা টিম দিনরাত কাজ করেছে। আমরা রিসার্চ করেছি, নিজেরা বসে নিয়মিত আলোচনা করেছি, অন্যদের পরামর্শ নিয়েছি, বারবার ড্রাফট পরিমার্জনা করেছি। এছাড়া, সরকারের ভেতর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গেও নিরন্তর লড়াই করেছি। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন প্রণয়ন করার জন্য আমাকে পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের করা আইনগুলো থেকে এখন পিছিয়ে পড়া কারও পক্ষে সম্ভব হবে না বলে মনে করেন আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এত কষ্ট বৃথা যাবে না বলে বিশ্বাস করি। মানুষ বলতে শুরু করেছে, এসবই প্রকৃত সংস্কার, এসব অধ্যাদেশ রাখতে হবে। আমার মনে হয় না, এসব আইন থেকে পিছিয়ে পড়া কারও পক্ষে সম্ভব হবে এখন।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের অন্যান্য কয়েকজন উপদেষ্টাও আইনগত সংস্কারের জন্য কাজ করেছেন। রাজস্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয়ে ভালো কিছু অধ্যাদেশ হয়েছে।’
সবাই এসব আইন রাখার বিষয়েও সচেতন থাকবে বলে আশা ড. আসিফ নজরুলের।