Advertisement

৯ম গ্রেডের শিক্ষক নিয়োগ কাদের হাতে, জানতে চান চাকরিপ্রার্থীরা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
৯ম গ্রেডের শিক্ষক নিয়োগ কাদের হাতে, জানতে চান চাকরিপ্রার্থীরা
মানবন্ধনে কথা বলছেন আন্দোলনকারীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে ৯ম গ্রেডের শিক্ষক নিয়োগের (বা ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বের বোঝা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।

Advertisement

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে সার্কুলার প্রকাশের আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান বজায় রাখতে হলে কোনোভাবেই ম্যানেজিং কমিটির কাছে নিয়োগের ক্ষমতা হস্তান্তর করা যাবে না।

মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৩ দফা দাবি হলো:

১. কোনো ম্যানেজিং কমিটি নয়, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

২. আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে ৯ম গ্রেডের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার প্রকাশ করতে হবে।

৩. এনটিআরসিএ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অক্ষম হলে তা সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) হস্তান্তর করে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য আন্দোলনের সমন্বয়ক রুমন কবির বলেন, ‘আমাদের একমাত্র শেষ আশ্রয়স্থল ছিল এনটিআরসিএ। সেই এনটিআরসিএ যদি এখন কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়, তবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী এই পেশায় আসতে পারবে না; বরং এখানে চরম দুর্নীতি ও বাণিজ্য শুরু হবে। শিক্ষামন্ত্রী একবার বলছেন কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হবে, পরক্ষণেই আবার অস্বীকার করছেন। আমরা গত ৩-৪ মাস ধরে টানা রাজপথে আছি। আমরা অনতিবিলম্বে নিয়োগের স্পষ্ট রোডম্যাপ ও সার্কুলার চাই। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সার্কুলার দেওয়া না হলে আমাদের এক দফা দাবি হবে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।’

অপর সমন্বয়ক মাহবুব আলম বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছেন। একদিকে তিনি সভায় সভাপতিত্ব করে কমিটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব পাস করাচ্ছেন, অন্যদিকে গণমাধ্যমে বলছেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বদলি ও নতুন নিয়োগ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস—তা গুলিয়ে দিয়ে জাতিকে বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৭৫ হাজার সহকারী শিক্ষক এবং ১৪ হাজারের বেশি প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার পদে যদি ১৫ লাখ টাকা করে দুর্নীতি করা হয়, তবে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য ম্যানেজিং কমিটির পকেটে চলে যাবে। নতুন বাংলাদেশে কোনো কোটা বা কমিটির বাণিজ্য চলবে না। মেধার ভিত্তিতে এনটিআরসিএ বা পিএসসির মাধ্যমেই স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সার্কুলার জারি করা না হলে ঢাকাসহ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাজপথে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।