logo

চাকরিচ্যুত ৯ হাজার কর্মীকে ইসলামী ব্যাংকে ফেরাতে তদন্ত চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাকরিচ্যুত ৯ হাজার কর্মীকে ইসলামী ব্যাংকে ফেরাতে তদন্ত চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়া নিয়োগের বৈধতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতেও তদন্ত চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তাকবির দিয়ে ব্যাংক দখলের পর নিয়মবহির্ভূতভাবে ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অনায্যভাবে কোনো আইনকানুন না দেখে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এখন তারা প্রায়ই রাস্তায় আন্দোলন করেন, আপনারা দেখতে পারবেন।

তিনি বলেন, নতুন করে ৬ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক। তাদের অর্ধেকের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে আর বাকী অর্ধেক স্থায়ী করার প্রক্রিয়া চলছে। নিয়ম ভেঙে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই থেকে তিনটি পর্যন্ত প্রমোশন দিয়ে মোট ১৩ হাজার কর্মীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এগুলো তো ইসলামের নামেই হয়েছে। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে। তদন্ত হলে আমাদেরও কারও কারও নাম সেখানে চলে আসতে পারে। টাকা কোথায় সরানো হয়েছে সেটাও তদন্ত করা হোক।

সালাহউদ্দিন বলেন, অনায্যভাবে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সবাইকে চাকরি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হোক। আর যাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের বিষয়েও তদন্ত করা হোক।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের সেকশন ৪৫, ৪৬, ৪৭ এবং ৫৭(এ)-এর কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থে, মুদ্রানীতি ও ব্যাংক নীতি রক্ষার্থে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্নকারী যে কোনো কার্যক্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলে যে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল এবং চেয়ারম্যানসহ বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের অপসারণ করতে পারে। রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের স্বার্থে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

মন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে যে ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ বা অপরাধী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ নীতি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো অভিযোগ বা তদন্ত প্রমাণিত হয়নি। তবে নতুন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে।

একই সঙ্গে, ব্যাংকে জোরপূর্বক কলম বিরতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও ফুটেজসহ সব প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহকদের উসকানি দিয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।