logo

খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করায় ‘অবাক’ বিএনপি নেতাকর্মীরাও

খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করায় ‘অবাক’ বিএনপি নেতাকর্মীরাও

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন খলিলুর রহমান। সেই সময় থেকেই আলোচিত তিনি। নতুন করে আবার আলোচনায় সাবেক এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা। 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি জোট। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান। যা নিয়ে বিরোধীদল নানা সমালোচনা করছে। অবাক হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর হয়েছে। কারণ অন্তবর্তী সরকারের সময় খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এমনকি নানা ইস্যুতে খলিলুর রহমানের সমালোচনা করতে দেখা গেছে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের। এখানেই থামেননি তারা অন্তর্বর্তী সরকার থেকে খলিলুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিল তারা।

এরপর নির্বাচনের কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি ঘিরেও অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বিএনপি নেতাদের অনেকে প্রকাশ্যে খলিলুর রহমানের সমালোচনা করেছেন।

এসবের ভিড়েও খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সরকারে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি কেন তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিল?

বিএনপির নেতাকর্মীরাও অবাক

সরকার গঠনের আগমুহূর্তে বিএনপির মন্ত্রিসভার জন্য খলিলুর রহমানের নাম আলোচনায় আসে সামাজিক মাধ্যমে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও তিনি মন্ত্রী হতে পারেন বলে খবর প্রকাশ হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে নির্বাচিত সংসদ নেতা তার সরকারের মন্ত্রিপরিষদে কাকে নেবেন বা কাকে রাখবেন, সেটা একান্ত তার এখতিয়ার। তিনি চাইলে দলের কারও কারও সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন, আবার নাও করতে পারেন।

সে কারণে মন্ত্রিসভা গঠনের আগে সম্ভাব্যদের নাম গোপন থাকে। এরপরও সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয় অনেক নাম নিয়ে। এবারও তাই হয়েছে। তবে খলিলুর রহমান যে মন্ত্রী হচ্ছেন, তা আলোচনায় এসেছে শেষ মুহূর্তে।

বিএনপির নেতাকর্মীরাও অবাক হয়েছেন বলে মনে হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, খলিলুর রহমান তাদের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাবেন, এটি তাদের ধারণায় ছিল না। সরকার গঠনের আগমুহূর্তে সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে তারা অবাক হয়েছেন।

তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন ইস্যুতে খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে তারাও সমালোচনা করেছেন। তার পদত্যাগও তারা চেয়েছিলেন। এখন তাদের সরকারই খলিলুর রহমানের মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা