মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসীদের নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে যেসব প্রবাসী দেশে ফিরতে চান, তাদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মোশাররফ হোসেন দুই সন্তান রেখে গেছেন—তাদের শিক্ষার দায়িত্ব সরকার নেবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাবস্থায় আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের মিশনগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।’
তিনি আরও জানান, যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি চার্টার ফ্লাইট পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে। তবে সবার পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ অনেকের কর্মসংস্থান ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।
‘যারা সেখানে থাকতে চান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর যারা ফিরতে চান, তাদের পর্যায়ক্রমে দেশে আনার চেষ্টা চলছে,’ বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটবে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত মোশাররফ হোসেনের দাফন-কাফনের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের আওতায় তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।