logo

ভুয়া সাংবাদিকে দেশ ভরে গেছে, প্রকৃতদের তালিকা হওয়া উচিত: কাদের গনি চৌধুরী 

ভুয়া সাংবাদিকে দেশ ভরে গেছে, প্রকৃতদের তালিকা হওয়া উচিত: কাদের গনি চৌধুরী 

দেশে ভুয়া সাংবাদিকে ভরে গেছে, প্রকৃতদের তালিকা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের চোখ। এ চোখ দিয়েই সরকার সমাজের অনেক ভেতর পর্যন্ত দেখতে পায়। সংবাদমাধ্যম না থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্র অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। 

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব দিতে হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে স্বৈরাচারের জন্ম হবে না। রাষ্ট্র পথ হারাবে না।

বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, সরকারসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমালোচনা করে মিডিয়া তাদের আরও সংশোধনের সুযোগ করে দেয়। সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। একজন সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। সত্য খুঁজে বের করা এবং সত্যকে রক্ষা করা। তাই সাংবাদিকদের যেমন সাহসী হতে হয়, তেমনি সত্যনিষ্ঠ ও নীতির প্রশ্নে আপসহীন এবং ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়। 

তিনি আরও বলেন, সততা, নির্ভুলতা এবং পক্ষপাতহীনতা এই তিনটি হলো সাংবাদিকতার মূলভিত্তি। তাই সংবাদ হতে হবে শতভাগ নির্ভুল ও শুদ্ধ। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম তার গণমুখী চরিত্রটা হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে পতিত সরকারের সময় বাংলাদেশের মিডিয়ায় সাংবাদিকতা বলতে কিছুই ছিল না। সে সময় আমাদের সাংবাদিকদের অনেকে দলদাসে পরিণত হয়েছিলেন। সম্পাদকদের কেউ কেউ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর সক্ষমতা না থাকলে তার সম্পাদকের চেয়ারে বসা উচিত নয়।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, পতিত সরকারের সময় সাংবাদিকতার এমন অধঃপতন হয়েছিল যে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ গণশত্রুতে পরিণত হয়। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে তারা নিজ থেকে পালাতে শুরু করেন। কেউ কেউ পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। অনেক সাংবাদিক পদ-পদবি হারিয়েছেন।

এগুলো দুঃখজনক ও অস্বাভাবিক জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে তারা গণআস্থার জায়গায় ধরে রাখতে পারেননি। সরকারকে তুষ্ট করতে গিয়ে তারা জনআকাঙ্ক্ষার কথা ভুলে গিয়েছিলেন। এখানে গণমাধ্যমকর্মীদের নৈতিক পরাজয় ঘটে। অনেক সাংবাদিক অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তারা গণশত্রুদের মুখোশ উন্মোচন না করে দালালি করেছেন। 

বিএফইউজের এই নেতা বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো পত্রিকা বের হচ্ছে। বগল সম্পাদকদের দাপটে আসল সাংবাদিকরা কোণঠাসা। প্রকৃত সম্পাদক ও সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। কে সাংবাদিক আর কে সাংঘাতিক এটা ঠিক না হওয়ায় জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংবাদিক নামধারী সাংঘাতিকদের দ্বারা ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি অফিসাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের বলা হয় ‘ওয়াডস’ সমাজের অতন্দ্রপ্রহরী। আমরা ‘প্যাটডগ’ পোষা কুকুরে পরিণত না হই।

সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় অন্যদের মধ্যে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, মামুন ফরাজী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।