logo

নিজ দেশের সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ সাবেক কূটনীতিকের

নিজ দেশের সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ সাবেক কূটনীতিকের

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আবেদন করে নিজ দেশের সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক কূটনীতিক, সাংবাদিবক ও মানবাধিকারকর্মী মুশফিকুল ফজল আনসারি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সম্প্রতি একটি নিউজ ফিডে তিনি দেখেছেন সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নাকি জাতিসংঘে চাকরি খুঁজছেন। তবে এ খবরের সত্যতা তিনি যাচাই করেননি এবং এতে তার ব্যক্তিগত আগ্রহও নেই বলে উল্লেখ করেন। তার মূল আগ্রহ অন্য জায়গায়—জাতিসংঘে নিজের একটি আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে।

তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদটি শূন্য হলে তাকে আবেদন করতে উৎসাহ দেন এক বিদেশি সহকর্মী। লাটভিয়ার মিস ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পদটি খালি হয়। বিষয়টি তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও প্রাথমিকভাবে তাকে আবেদন করার অনুমতি দেন বলে দাবি করেন তিনি।

মুশফিকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পদে আবেদন করতে সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ও নোট ভারবাল প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় আগ্রহী ছিল। তবে তিনি নিজের দেশ বাংলাদেশ সরকারের সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন, কারণ এই সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

তিনি যথারীতি আবেদন পাঠান। কিন্তু আবেদন পাঠানোর পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছ থেকে “not to proceed” বার্তা পান বলে দাবি করেন। জবাবে তিনি জানান, আবেদন ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার ফোন ধরেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার মতে, আবেদন করলেই মনোনয়ন নিশ্চিত হয় না, তবে নিজের দেশের ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়াটাই তার কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয়। তিনি জানান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করার পরও এমন আচরণে তিনি হতাশ হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করলেও তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ চাননি।

তিনি আরও দাবি করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়েছিল যে, ‘মুশফিক জিততে পারবে না, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি।’ অথচ এ পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না; সদস্য রাষ্ট্র মনোনয়ন দিলে জাতিসংঘ শর্টলিস্ট করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।

পোস্টের শেষদিকে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিজের দেশের সমর্থন না পেলেও এখন অনেকে বিভিন্ন পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি এখনই সব প্রকাশ করছেন না, তবে ভবিষ্যতে একটি বইয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানান।