বাজেটে তামাকপণ্যে কর ও দাম বাড়াতে মানববন্ধন

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ডর্প টোব্যাকো-ফ্রি ইয়ুথ-এর সদস্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী। সিগারেটের সহজ প্রাপ্যতা কমাতে এবং তামাকের ক্ষতি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে আগারগাঁওয়ের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। এ জন্য তামাকপণ্য তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। তামাকপণ্যের দাম বাড়াতে হবে।
বিইউপি শিক্ষার্থী সাইফুল বলেন, বাংলাদেশে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা, অপরদিকে তামাক থেকে রাজস্ব প্রাপ্তি মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য (জর্দা, গুল, সাদাপাতা) অন্তর্ভুক্ত করলে এই আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তুলনায় তামাকপণ্য খুবই সস্তা। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও আয়বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি না হওয়ায় এসব পণ্য তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে।
সরকারের কাছে তামাকের মূল্যবৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে ডর্প তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রতিনিধি জেবা আফরোজা বলেন, সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামোর কারণেও সিগারেট সস্তা ও সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে, যা তরুণদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।