বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ করে না বলেই ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসেনি: প্রধানমন্ত্রী

বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ করে না বলেই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এর পাশাপাশি আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানেরও উদ্বোধন করেন তারেক রহমান।
বিরোধীদলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে। বিরোধী দল জুলাইকে ধারণ করে না বলেই আজ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেয়নি। আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে বিরোধীদল। বিরোধীদলকে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব ব্যাপারে একমত না হতে পারলেও দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৭১ এবং ২৪ এর জুলাই আন্দোলন। দুই আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল একই।
জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮১৩ জন শহীদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। এসব শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দলকে বেছে নিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য। যারা আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে।
বিরোধীদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এডিস মশা সরকারি কিংবা বিরোধীদল চেনে না। তাই ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানান জানান তিনি।
এর আগে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

