এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, গুলি ছুড়েছিল কে?

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কারখানাশ্রমিক মারুফ ওরফে দুখু মিয়া। তবে মারুফের শরীরে প্রাণঘাতী গুলিটি কার অস্ত্র থেকে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদের অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআরবির কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার মুখে আত্মরক্ষার্থে তাদের সদস্যরা চারটি ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলেন। অন্যদিকে নিহতের পরিবারের ভাষ্য, গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে বের হওয়ার পর গুলিবিদ্ধ হন মারুফ। তবে কে গুলি করেছে, তা তারা দেখেননি।
এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাদা পোশাকে চার সদস্যের একটি দল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায়। এ সময় ২৪৫টি ইয়াবা ও ১৩৯ পুরিয়া হেরোইনসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। হামলাকারীদের দিক থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে কোন পক্ষের গুলিতে মারুফের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
মারুফের মা সেলিনা বেগমের দাবি, ছেলের গলায় গুলি লেগেছিল। অন্যদিকে মামলার এজাহারে ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মারুফের স্ত্রী মীম আক্তার রুনা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ পর খাবার খেতে চেয়ে বাইরে যান তার স্বামী। পরে গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মারুফের মৃত্যু নিয়ে এজাহারের বর্ণনা ও পরিবারের বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের না পড়িয়েই কাগজে টিপসই নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় হত্যা, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে তিনটি মামলা হয়েছে।
ঘটনার পর ধলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

