logo

আমার আয়ের উৎস সম্পূর্ণ সাদা: সালমান মুক্তাদির

আমার আয়ের উৎস সম্পূর্ণ সাদা: সালমান মুক্তাদির
সালমান মুক্তাদির গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ভাঙচুর হওয়া স্টুডিও দেখাচ্ছেন। ছবি: তার ভিডিও থেকে নেওয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির তার আয়ের উৎস এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) অনলাইনভিত্তিক আলোচিত টকশো ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’-এ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন, উপার্জন, রাজনৈতিক সংযোগের গুঞ্জন এবং সাম্প্রতিক স্টুডিও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

আয়ের উৎস নিয়ে অনুষ্ঠানে সালমান মুক্তাদির জানান, তিনি গত ১২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বহুজাতিক ও স্থানীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছেন। তার আয়ের পুরোটাই সম্পূর্ণ ‘সাদা’।

বিনোদন অঙ্গনে কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে সালমান বলেন, আমি দেশের একদম ‘টপ অব দ্য টপ’ ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কাজ করেছি টানা ১২ বছর ধরে। সারা বছর ধরে আমি যে পরিমাণ কাজ করি, তা সরকারে থাকা বহু লোকও করে না। সবাই যদি এভাবে কাজ করত, তবে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সবার নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হতো।

নিজের আর্থিক উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়ানো গুঞ্জন ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সালমান জানান, সরকারের কিছু মহল বা সংস্থার পক্ষ থেকে সন্দেহের চোখে দেখা এবং আয়ের উৎস জানতে চাওয়াটা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন তুলে বলেন, সংসদে যারা বসে আছেন, তারা ভাবেন আমরা কেন টাকা উপার্জন করব? আমরা তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে গাড়ি পাহারা দেব আর ‘স্যার স্যার’ করব? বিলাসবহুল জীবনযাপন, লাল পাসপোর্ট, ক্লাবের সদস্যপদ কিংবা রোলস রয়েস চালানো; এসব কি শুধু তাদেরই অধিকার? আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে বিএমডব্লিউ চালাব, সেই সাহস আমাদের কেন হলো; আমাদের কি টাকা উপার্জনের কোনো অধিকার নেই?

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ব্যক্তি তাঁকে কোনো ধরনের অর্থায়ন করছে না। তাঁর অর্জিত সফলতার পেছনে এককভাবে তাঁর ব্যক্তিগত শ্রম, মেধা ও পেশাদারিত্বই মূল ভূমিকা পালন করেছে।

আলোচনায় সালমান মুক্তাদির নিজেকে ‘ম্যাটেরিয়ালিস্টিক’ বা বস্তুবাদী হিসেবে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, কেবল বিপুল অর্থ উপার্জনের চেয়ে সৃজনশীল কাজের মান বজায় রাখা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তার মূল লক্ষ্য। তার বর্তমান লাইফস্টাইল ও স্টুডিওর উন্নত অবকাঠামো মূলত এক দশকেরও বেশি সময়ের ধারাবাহিক অর্জনেরই ফল।

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় সিসিটিভি ক্যামেরাসহ স্টুডিওর সব মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল লুটপাট করে তছনছ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবশেষ সোমবার (৫ অক্টোবর) মাগুরা থেকে বিকাশ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।