logo

জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে কিউ কমের রিপন

জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে কিউ কমের রিপন

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউ কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়া জামিনে বের হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে পরিচয় গোপনের শর্তে একটি সূত্র এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছে। তবে জামিনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। 

পণ্য দেওয়ার নাম করে গ্রাহকদের থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কিউ কমের রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রথম গ্রেপ্তার হন তিনি।

এরপর ব্যবসা পরিচালনা করে গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে ২০২২ সালে জামিনে মুক্ত হন। তবে গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখায়নি কিউ কম তথা রিপন।

টাকা ফেরত না পাওয়া এমন ৩৪ পাওনাদার গ্রাহক এক কোটি ৩০ লক্ষাধিক টাকার জন্য বাড্ডা থানায় রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। মামলায় গত বছরের নভেম্বরে রিপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় বাড্ডা থানা পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তখন তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। 

সেখান থেকে পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয় রিপনকে। কুষ্টিয়ার এক গ্রাহকের দায়ের করা মামলার সূত্রে সেখানে নেওয়া হয় তাকে। 

সূত্র বলছে, ঢাকা থেকে জামিনে মুক্ত হলে জানাজানি হবে, তাই নিজে কুষ্টিয়া গিয়ে সেখান থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন রিপন। 

রিপনের খুবই ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, বের হওয়ার পর ভারত পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রিপনের। আর ভারত থেকে তৃতীয় কোন উন্নত দেশে। তবে ভারত যাওয়ার পরিকল্পনা সফল হয়নি রিপনের।

সবশেষ তথ্য মতে, জামিনে জেল থেকে বের হলেও পাওনাদারদের ভয়ে আছেন আত্মগোপনে। তবে রিপনের ওই ঘনিষ্ঠ সূত্রটি জানিয়েছে যে, বর্তমানে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন তিনি। সুযোগ বুঝে দেশ ছাড়বেন। যদিও রিপনের বিরুদ্ধে এখনও একাধিক মামলার কার্যক্রম চলমান এবং অন্তত নয়টি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।

এসব বিষয়ে রিপনের দুইটি নম্বরে যোগাযোগ করলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) তার বনানীর বাসায় গেলে গেটের নিরাপত্তাকর্মী জানান যে, তিনি সেখানে নেই। ওপরের ফ্ল্যাটে যেতে চাইলেও প্রতিবেদককে বাধা দেওয়া হয়

নিরাপত্তা কর্মীর মাধ্যমে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হলেও সাড়া মেলেনি।